সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিস্ট জয়ের মিথ্যা প্রচারণার ষড়যন্ত্র: “অপতথ্যের জনক” বলে নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২৯ Time View

joy 20250801154807

joy 20250801154807

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে, তথাকথিত প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি তার একের পর এক গুজব ছড়ানোর ঘটনা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ভিত্তিহীন দাবি করে পোস্ট দেওয়া ও ধরা পড়ে যাওয়ার পর তা চুপিসারে মুছে ফেলার যে প্রবণতা, তাতে তাঁকে ‘অপতথ্যের জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নেটিজেনরা।

৫ আগস্ট সামনে রেখে দেশে অস্থিরতা তৈরি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জয় তার পরিচিত কৌশল—’গুজব ছড়াও, পোস্ট মুছো’—ফের ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে জয় দাবি করে বসেন, নেত্রকোনা-৩ আসনের সাবেক এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুকে কারাগারে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পিন্টু ছিলেন নিখুঁতভাবে মুক্ত ও কারাগারে ছিলেন না। তিনি ঢাকার নিকুঞ্জের নিজ বাসায় মারা যান এবং পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মৃত্যু স্বাভাবিক বা অসুস্থতা-জনিত হতে পারে।

শুধু ভুল তথ্যই নয়, জয় এই পোস্টে ইফতিকারের নামটিও সঠিকভাবে লেখেননি। এমন খোলামেলা মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু ব্যবহারকারী—”যে গ্রেপ্তারই হয়নি, তাকে আবার জেলে মেরে ফেলা হলো কীভাবে?” এমন প্রশ্নে জয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সংকটে পড়ে।

এছাড়া, জয় দাবি করেন ১২০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ শেখ ইদ্রিসকে আওয়ামী লীগ সরকার জেলে পাঠিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, শেখ ইদ্রিস ২০০৩ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামি এবং ২০১৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তার ১০ বছরের সাজা হয়। উচ্চ আদালতও এ রায় বহাল রাখে। তার বয়স নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সাংবাদিক রাজীব আহমদ তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “৫ আগস্টের পর এই নিয়ে জয় ১৪তম বার গুজব ছড়িয়ে ধরা খেয়ে পোস্ট ডিলিট করেছে। কেউ ভুল করে এক-দুইবার মিথ্যা তথ্য শেয়ার করতে পারে, কিন্তু একই ব্যক্তি যখন এক বছরে ১৪ বার গুজব ছড়ায় এবং ধরা পড়ে পোস্ট ডিলিট করে, তখন সেটিকে আর ‘ভুল’ বলা যায় না, সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় এখন শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এক ধরনের ‘ডিজিটাল অপব্যবস্থার’ রূপকার, যার কাজ হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করা।

জয় সম্প্রতি ২২ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে আরেকটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন, যেখানে তিনি দাবি করেন পুলিশের গুলিতে জিওপিতে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট জনমনে ভীতি ও ঘৃণা তৈরি করে এবং সহিংসতা উস্কে দেয়। পোস্টটি মাত্র ১১ মিনিট পর মুছে ফেললেও ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গেছে—বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর অভিযোগ ওঠে।

তাঁর আরও এক পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন, যেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হলে তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। তার একের পর এক এমন ‘ভুয়া পোস্ট–ডিলিট’ কার্যক্রমে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মাঝে বিস্ময়, ক্ষোভ এবং বিরক্তি বিরাজ করছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—জয় কি মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন? নাকি তিনি সত্যিই সচেতনভাবে একটি দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে জড়িত?

গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, জয় কেবল বিভ্রান্তিমূলক তথ্যই দেন না, বরং তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরেও কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করেন না। বরং অপপ্রচার সফল হলেই পোস্ট ডিলিট করে দেন এবং পরবর্তী অপপ্রচারের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এই কৌশল ভারতীয় প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞদের হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাছ থেকে শেখা বলেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।

সচেতন মহলের অভিমত, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের পথে এই ‘ডিজিটাল গুজববাদ’ একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, তা এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশ আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এখন সময় এসেছে—গুজব ও অপপ্রচারের রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে সত্য ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সমাজকে সচল করার। ‘অপতথ্যের জনক’ হিসেবে আখ্যাপ্রাপ্ত জয়কে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর আওতায় এনে তার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফ্যাসিস্ট জয়ের মিথ্যা প্রচারণার ষড়যন্ত্র: “অপতথ্যের জনক” বলে নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ

Update Time : ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

joy 20250801154807

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে, তথাকথিত প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি তার একের পর এক গুজব ছড়ানোর ঘটনা, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ভিত্তিহীন দাবি করে পোস্ট দেওয়া ও ধরা পড়ে যাওয়ার পর তা চুপিসারে মুছে ফেলার যে প্রবণতা, তাতে তাঁকে ‘অপতথ্যের জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নেটিজেনরা।

৫ আগস্ট সামনে রেখে দেশে অস্থিরতা তৈরি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জয় তার পরিচিত কৌশল—’গুজব ছড়াও, পোস্ট মুছো’—ফের ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে জয় দাবি করে বসেন, নেত্রকোনা-৩ আসনের সাবেক এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুকে কারাগারে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পিন্টু ছিলেন নিখুঁতভাবে মুক্ত ও কারাগারে ছিলেন না। তিনি ঢাকার নিকুঞ্জের নিজ বাসায় মারা যান এবং পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মৃত্যু স্বাভাবিক বা অসুস্থতা-জনিত হতে পারে।

শুধু ভুল তথ্যই নয়, জয় এই পোস্টে ইফতিকারের নামটিও সঠিকভাবে লেখেননি। এমন খোলামেলা মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু ব্যবহারকারী—”যে গ্রেপ্তারই হয়নি, তাকে আবার জেলে মেরে ফেলা হলো কীভাবে?” এমন প্রশ্নে জয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সংকটে পড়ে।

এছাড়া, জয় দাবি করেন ১২০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ শেখ ইদ্রিসকে আওয়ামী লীগ সরকার জেলে পাঠিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, শেখ ইদ্রিস ২০০৩ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামি এবং ২০১৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে তার ১০ বছরের সাজা হয়। উচ্চ আদালতও এ রায় বহাল রাখে। তার বয়স নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সাংবাদিক রাজীব আহমদ তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “৫ আগস্টের পর এই নিয়ে জয় ১৪তম বার গুজব ছড়িয়ে ধরা খেয়ে পোস্ট ডিলিট করেছে। কেউ ভুল করে এক-দুইবার মিথ্যা তথ্য শেয়ার করতে পারে, কিন্তু একই ব্যক্তি যখন এক বছরে ১৪ বার গুজব ছড়ায় এবং ধরা পড়ে পোস্ট ডিলিট করে, তখন সেটিকে আর ‘ভুল’ বলা যায় না, সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় এখন শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এক ধরনের ‘ডিজিটাল অপব্যবস্থার’ রূপকার, যার কাজ হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি করা।

জয় সম্প্রতি ২২ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে আরেকটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন, যেখানে তিনি দাবি করেন পুলিশের গুলিতে জিওপিতে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট জনমনে ভীতি ও ঘৃণা তৈরি করে এবং সহিংসতা উস্কে দেয়। পোস্টটি মাত্র ১১ মিনিট পর মুছে ফেললেও ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গেছে—বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর অভিযোগ ওঠে।

তাঁর আরও এক পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন, যেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হলে তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। তার একের পর এক এমন ‘ভুয়া পোস্ট–ডিলিট’ কার্যক্রমে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মাঝে বিস্ময়, ক্ষোভ এবং বিরক্তি বিরাজ করছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—জয় কি মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন? নাকি তিনি সত্যিই সচেতনভাবে একটি দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে জড়িত?

গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, জয় কেবল বিভ্রান্তিমূলক তথ্যই দেন না, বরং তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরেও কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করেন না। বরং অপপ্রচার সফল হলেই পোস্ট ডিলিট করে দেন এবং পরবর্তী অপপ্রচারের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। এই কৌশল ভারতীয় প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞদের হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাছ থেকে শেখা বলেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।

সচেতন মহলের অভিমত, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের পথে এই ‘ডিজিটাল গুজববাদ’ একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, তা এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশ আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

এখন সময় এসেছে—গুজব ও অপপ্রচারের রাজনীতির স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে সত্য ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সমাজকে সচল করার। ‘অপতথ্যের জনক’ হিসেবে আখ্যাপ্রাপ্ত জয়কে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর আওতায় এনে তার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।