সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে শহিদ পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুলকে মরণোত্তর পদোন্নতি, জানাজায় আবেগঘন জনসমুদ্র

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৮৭ Time View

173456 didarul

173456 didarul

নিউইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর নির্মম হামলায় শহিদ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে মরণোত্তর ডিটেকটিভ (প্রথম গ্রেড) পদে উন্নীত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD)। বৃহস্পতিবার তার জানাজার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদোন্নতির ঘোষণা দেয়া হয়। তার আত্মত্যাগ এবং কর্তব্যপরায়ণতার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদোন্নতি প্রদান করে ডিপার্টমেন্টটি।

বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বিখ্যাত পার্কচেস্টার জামে মসজিদে দিদারুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলার ড. জাকির আহমেদ। মসজিদের ভেতর ও বাইরে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তার জানাজায় শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিরাই নয়, নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ নিউ জার্সির লাওরেল গ্রোভ সিমেট্রিতে দাফন করা হয়।

এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস, নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হকুল, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, সাবেক গভর্নর এন্ড্রু কুওমো, ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র প্রার্থী যোহরান মামদানি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাজার হাজার কর্মকর্তা সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে দিদারুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং গার্ড অব অনার প্রদান করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বহু সদস্য চোখের পানি ফেলে তাদের গর্বিত সন্তানের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

জানাজা উপলক্ষে সকাল থেকেই পার্কচেস্টার এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় NYPD। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুপুর নামাজের আগেই মসজিদ প্রাঙ্গণসহ আশপাশে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বহু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে জানাজার অংশ হন।

জানাজার পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তারা দিদারুল ইসলামের সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং কমিউনিটির প্রতি তার অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, দিদারুল শুধু একজন দায়িত্ববান পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং একজন মানবিক মানুষ ছিলেন যিনি তার কমিউনিটির উন্নয়নে সদা সচেষ্ট ছিলেন। বক্তারা দিদারুলের শোকাহত পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী শেন তামুরা আকস্মিকভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই ভয়াবহ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ আরও চারজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিদারুল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্দুকধারীকে প্রতিহত করার চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হন। তার সাহসিকতা অনেকের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে।

দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে শুধু নিউইয়র্ক নয়, সমগ্র বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ গভীর শোকাহত। তার এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, পেশাগত দায়িত্বে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা একজন অফিসার কতটা সম্মানের দাবিদার হতে পারেন। নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে বাংলাদেশি-আমেরিকান দিদারুল ইসলাম হয়ে থাকবেন এক অনন্য উদাহরণ। তার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিউইয়র্কে শহিদ পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুলকে মরণোত্তর পদোন্নতি, জানাজায় আবেগঘন জনসমুদ্র

Update Time : ০৯:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

173456 didarul

নিউইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর নির্মম হামলায় শহিদ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে মরণোত্তর ডিটেকটিভ (প্রথম গ্রেড) পদে উন্নীত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD)। বৃহস্পতিবার তার জানাজার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদোন্নতির ঘোষণা দেয়া হয়। তার আত্মত্যাগ এবং কর্তব্যপরায়ণতার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদোন্নতি প্রদান করে ডিপার্টমেন্টটি।

বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বিখ্যাত পার্কচেস্টার জামে মসজিদে দিদারুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলার ড. জাকির আহমেদ। মসজিদের ভেতর ও বাইরে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তার জানাজায় শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিরাই নয়, নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরদেহ নিউ জার্সির লাওরেল গ্রোভ সিমেট্রিতে দাফন করা হয়।

এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস, নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হকুল, পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, সাবেক গভর্নর এন্ড্রু কুওমো, ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র প্রার্থী যোহরান মামদানি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাজার হাজার কর্মকর্তা সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে দিদারুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং গার্ড অব অনার প্রদান করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বহু সদস্য চোখের পানি ফেলে তাদের গর্বিত সন্তানের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

জানাজা উপলক্ষে সকাল থেকেই পার্কচেস্টার এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় NYPD। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুপুর নামাজের আগেই মসজিদ প্রাঙ্গণসহ আশপাশে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বহু মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে জানাজার অংশ হন।

জানাজার পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তারা দিদারুল ইসলামের সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং কমিউনিটির প্রতি তার অবদান তুলে ধরেন। তারা বলেন, দিদারুল শুধু একজন দায়িত্ববান পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, বরং একজন মানবিক মানুষ ছিলেন যিনি তার কমিউনিটির উন্নয়নে সদা সচেষ্ট ছিলেন। বক্তারা দিদারুলের শোকাহত পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী শেন তামুরা আকস্মিকভাবে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এই ভয়াবহ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ আরও চারজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিদারুল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্দুকধারীকে প্রতিহত করার চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হন। তার সাহসিকতা অনেকের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে।

দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে শুধু নিউইয়র্ক নয়, সমগ্র বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ গভীর শোকাহত। তার এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, পেশাগত দায়িত্বে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা একজন অফিসার কতটা সম্মানের দাবিদার হতে পারেন। নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে বাংলাদেশি-আমেরিকান দিদারুল ইসলাম হয়ে থাকবেন এক অনন্য উদাহরণ। তার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।