“দিল্লিতে ছক, ঢাকায় আগুন! আগষ্ট ঘিরে ভয়ংকর নাশকতার পরিকল্পনা, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাও”
- Update Time : ০৬:০৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৩০০ Time View

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসে আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভয়াবহ সরকারবিরোধী সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত চলছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। আশঙ্কাজনকভাবে এই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন আওয়ামী লীগের পলাতক কিছু প্রভাবশালী নেতা, যাদের সাথে ভারতের সাবেক গোয়েন্দা, সেনা ও কূটনৈতিক মহলেরও সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুরো পরিকল্পনার লক্ষ্য—৫ আগস্ট ‘জুলাই বিপ্লব’-এর বার্ষিকীকে ঘিরে ঢাকাসহ সারাদেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিয়ে সরকারকে বিপর্যস্ত করা।
গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, এই পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন ভারতের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তাঁরা দিল্লিতে বৈঠক করে রাজধানী ঢাকায় একটি সুসংগঠিত ‘নাশকতা ইউনিট’ গঠন করেছেন। এই ইউনিটের মূল দায়িত্ব থাকবে ঢাকার অভিজাত ও কৌশলগত এলাকাগুলোয় একযোগে হিট-অ্যান্ড-রান ধাঁচে সহিংসতা সৃষ্টি করা। তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দিক থেকে সহায়তা দিচ্ছেন ভারতের এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি আগে বাংলাদেশ সংক্রান্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষণে যুক্ত ছিলেন।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দলীয় ক্যাডারদের ‘কর্মশালা’ বা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে। যেখানে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আড়ালে দেওয়া হচ্ছে সশস্ত্র সহিংসতার প্রস্তুতি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দায়িত্ব থাকবে মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আকস্মিক হামলা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপকর্মে অংশ নেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছেন সেনাবাহিনীর মেজর সাদেকুল হক সাদেক, যিনি নিজেই দলীয় ক্যাডারদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং তাকে সাময়িকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সেনাবাহিনী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি পেশাদার বাহিনীর সদস্য কর্তৃক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া কেবল বাহিনীর নিরপেক্ষতা নয়, পুরো রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ওপর একটি বড় ধরনের হুমকি। এটি শুধু সংবিধানের পরিপন্থী নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, গত এক দশকে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কিছু সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এবং তারাই এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণভাবে এসব কর্মকর্তা ও ফ্যাসিবাদী সমর্থক গোষ্ঠীর মাধ্যমে ‘নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করে প্রশাসন ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘প্রচারযুদ্ধ’ পরিচালনা করা হবে বিদেশি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু কূটনৈতিক মহলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম মানবাধিকার সংকট উপস্থাপন ও সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও মিডিয়াকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে সরকারের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ইউনিট সীমান্ত এলাকা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পলাতক নেতাদের চলাফেরা নিবিড়ভাবে মনিটর করছে। পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করতে পারে, এমন আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা। সময়োপযোগী, কার্যকর এবং আইনসম্মত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে এবং এর ফল হতে পারে ভয়াবহ।
তাঁরা সতর্ক করছেন—এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য কেবল সরকার পতন নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অভিযাত্রাকে চিরতরে বিপর্যস্ত করা। সেজন্য এখনই সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে।













