রোমে বিমানের ফ্লাইটে যাত্রীর ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ, ফিরতি যাত্রায় ৪ ঘণ্টা বিলম্ব
- Update Time : ১২:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / ১৪৮ Time View

ইতালির রাজধানী রোমে একটি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য—বিশেষ করে কাঁচা মাছ ও মাংসের তরল বের হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঘটনায় মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ অস্বস্তিকর ঘটনার জেরে ঢাকাগামী ফিরতি ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হয় প্রায় চার ঘণ্টা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেলে রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বাংলাদেশ থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় একাধিক ব্যাগ থেকে তরলজাত খাবার বেরিয়ে যায় এবং তা বেল্ট ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। এর ফলে ভীত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন আশপাশের যাত্রীরা। বিষয়টি জানানো হলে বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশি যাত্রীদের লাগেজ খুলে তল্লাশি শুরু করে এবং বেশ কিছু পচনশীল খাদ্যদ্রব্য জব্দ করে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী, পচনশীল খাদ্যপণ্য নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই বিধিমালার আলোকে এ পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও অনুমতি মিলতে বিলম্ব হয় এবং অবশেষে রাত ১২টা ৪ মিনিটে ফ্লাইটটি রোম ত্যাগ করে। দীর্ঘ এই বিলম্বে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা।
যাত্রী রায়হান খান মোবাইলে জানান, “চার ঘণ্টা পরে রোম ছাড়ে বিমান। আমাদের কেউ সঠিকভাবে কিছু জানাচ্ছিল না, শুধু বলছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিচ্ছে না।”
এক ফ্লাইট ক্রু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীরা শুধু ব্যাগ নয়, পুরো কার্গো ডেকও পরীক্ষা করেছেন। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফ্লাইট ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।”
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতালি শাখার কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল হোসাইন জানান, “আমি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছি। তবে রোমে থাকা সহকর্মীদের কাছ থেকে জেনেছি, কয়েকজন যাত্রীর ব্যাগে কাঁচা মাছ-মাংসসহ পচনশীল খাদ্যসামগ্রী ছিল, যেগুলোর তরল ছড়িয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। ঢাকায় বিষয়টি জানানো হলে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এসব পচনশীল খাদ্যপণ্য ছাড়পত্র পেল—এটা বড় প্রশ্ন। অনেকের মতে, এটি কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিথিলতা নয়, বরং যাত্রীদের সচেতনতার ঘাটতিরও পরিণতি।
রোম প্রবাসী ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “বিমান কর্তৃপক্ষ যদি আগে থেকেই জানিয়ে দিত কোন পণ্য বহন করা নিষিদ্ধ, তাহলে যাত্রীরা এমন ভুল করত না। সব দায় যাত্রীর নয়, বিমানবন্দর এবং এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কঠোর তদারকি এবং যাত্রীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনার দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পচনশীল খাদ্যবস্তু বহনের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।













