জামিন পেলেন ফারাবী
- Update Time : ১১:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / ১৪২ Time View

ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শফিউর রহমান ফারাবীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাকির হোসেন এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (৩১ জুলাই) এই জামিন আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। শুনানি শেষে আদালত আপিল বিচারাধীন থাকাকালে ফারাবীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের মেয়াদ কতদিন, তা লিখিত আদেশ পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে জানান আইনজীবীরা।
মামলার আপিল প্রক্রিয়া ও জামিনের পেছনের যুক্তি সম্পর্কে আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, “২০২১ সালে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ফারাবী। হাইকোর্ট সেই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে। আমরা আদালতে যুক্তি দিয়েছি, ফারাবীকে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলায় চারজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকলেও, তাদের কেউই ফারাবীর নাম উল্লেখ করেননি। এমনকি কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দিতেও তার নাম ওঠেনি, শুধু তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য ছাড়া।”
তিনি আরও বলেন, “ফারাবী নিজেও কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তাছাড়া ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে তিনি টানা এই মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। দীর্ঘকাল কারাভোগ, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি এবং বিচারিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণের ত্রুটির বিষয়গুলো তুলে ধরে জামিন আবেদন করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বইমেলা শেষে ফেরার পথে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। পরে মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ফারাবী এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের মধ্যেই উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আজ তার জামিন মঞ্জুর হওয়ায় মামলাটিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আপিলের চূড়ান্ত রায়ে উচ্চ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন এবং ফারাবীর দণ্ড বহাল থাকে কিনা।













