সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করো!”—জাতিসংঘে গর্জে উঠল মুসলিম বিশ্ব

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯৪ Time View

BeFunky collage 2025 07 31T180923696 2507311210

BeFunky collage 2025 07 31T180923696 2507311210

ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করো!”—জাতিসংঘে গর্জে উঠল মুসলিম বিশ্ব
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গাজা সংকট ফিলিস্তিন প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ঘোষণা মুসলিম দেশগুলোর, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত “ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন”-এর শেষ দিনে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো এক অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শন করেছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আরব লীগ, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি), ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একযোগে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘে ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিতের আহ্বান তোলেন।

রক্ত দিয়ে চড়া মূল্য দিচ্ছে ফিলিস্তিনিরা”—আরব লীগের বক্তব্য

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইতের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এক প্রতিনিধি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি দখলদারিত্ব, বৈষম্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের লাগাতার লঙ্ঘনের ফল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ ফিলিস্তিনিরা যে ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে, সেটি শুধু তাদের নয়, আমাদের সবার জন্যই পরোক্ষভাবে ক্ষতিকর।”

তিনি আবারও উল্লেখ করেন, ২০০২ সালে বৈরুতে গৃহীত আরব শান্তি উদ্যোগই হলো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র গ্রহণযোগ্য কাঠামো। “দুঃখজনকভাবে, ইসরায়েল পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের জবাবে এসেছে অহংকার, ধর্মীয় উগ্রতা ও বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদ।”

আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করছে ইসরায়েল”—ওমান জিসিসির অভিযোগ

ওমানের প্রতিনিধি বলেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই সমাধান হতে হবে।” তার মতে, ইসরায়েল একতরফাভাবে শান্তিপ্রক্রিয়া ধ্বংস করছে, যা জাতিসংঘ প্রস্তাব ও মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কোনো টেকসই পথ নেই। তারা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। জিসিসির প্রতিনিধি বলেন, “সত্যিকারের শক্তি শোষণ নয়, বরং ন্যায়ের পক্ষে ব্যবহারে। এখন সময় এসেছে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার।”

গাজায় সংঘটিত হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ”—ওআইসি

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের প্রতিনিধি বলেন, “ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, উচ্ছেদ, অনাহার এবং অবরোধের মাধ্যমে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল নিজেদের সার্বভৌমত্ব আরোপ করতে চাইছে, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন।”

জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ইসরায়েলকে বহিষ্কার করো”—ইরান

ইরানের প্রতিনিধি জাতিসংঘে বলেন, “ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নরম নীতির সময় শেষ। জাতিসংঘের সনদের প্রতি বারবার অবজ্ঞার কারণে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও জাতিসংঘ সদস্যপদ স্থগিত করা উচিত।” তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া এবং সেই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনো বাধা না দেয়।

গুতেরেসের সতর্কবার্তা এবং ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “গাজা সংকট এখন চূড়ান্ত ভাঙনসীমায় পৌঁছে গেছে।” তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি জরুরি—নয়তো দুর্ভিক্ষ, গণহত্যা ও শরণার্থী সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন এই সম্মেলনকে “রাজনৈতিক প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, “এই সম্মেলনে বাস্তবতা বিকৃত করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার ও সন্ত্রাসের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।”

যুদ্ধবিরতির চাপ, তবুও ইসরায়েল অনড়

জানা গেছে, বুধবার ইসরায়েল সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তাদের দাবি গাজার কিছু কৌশলগত অঞ্চল থেকে সৈন্য না সরানোর। পাশাপাশি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার কিছু অংশ দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন, যদি হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়।

এমন এক উত্তপ্ত সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ বৃহস্পতিবার তেল আবিব সফরে যাচ্ছেন। এ সফরের উদ্দেশ্য মূলত যুদ্ধবিরতির পথ বের করা, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতি নিয়ে অনেক মুসলিম দেশের অসন্তোষ রয়েছে।

আগামীর সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের বার্তা

এই সম্মেলনের ফলোআপ অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় অনুষ্ঠিত হবে। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—ইসরায়েলের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান যেন বিলম্ব না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ও কণ্ঠস্বর গর্জনের এক স্পষ্ট চিত্র। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বরাজনীতি সেই গর্জনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সূত্র:

  • United Nations Official Meeting Reports, July 2025
  • Al Jazeera Middle East News Desk
  • Reuters Middle East Special Bulletin
  • OIC and Arab League Official Statements
  • Human Rights Watch Gaza Conflict Report 2025
  • UN Secretary-General Antonio Guterres’ Official Statement on Gaza Crisis

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করো!”—জাতিসংঘে গর্জে উঠল মুসলিম বিশ্ব

Update Time : ০৬:২২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

BeFunky collage 2025 07 31T180923696 2507311210

ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করো!”—জাতিসংঘে গর্জে উঠল মুসলিম বিশ্ব
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গাজা সংকট ফিলিস্তিন প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ঘোষণা মুসলিম দেশগুলোর, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত “ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন”-এর শেষ দিনে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো এক অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শন করেছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আরব লীগ, গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি), ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একযোগে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘে ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিতের আহ্বান তোলেন।

রক্ত দিয়ে চড়া মূল্য দিচ্ছে ফিলিস্তিনিরা”—আরব লীগের বক্তব্য

আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইতের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এক প্রতিনিধি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি দখলদারিত্ব, বৈষম্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের লাগাতার লঙ্ঘনের ফল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আজ ফিলিস্তিনিরা যে ভয়াবহ মূল্য দিচ্ছে, সেটি শুধু তাদের নয়, আমাদের সবার জন্যই পরোক্ষভাবে ক্ষতিকর।”

তিনি আবারও উল্লেখ করেন, ২০০২ সালে বৈরুতে গৃহীত আরব শান্তি উদ্যোগই হলো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র গ্রহণযোগ্য কাঠামো। “দুঃখজনকভাবে, ইসরায়েল পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের জবাবে এসেছে অহংকার, ধর্মীয় উগ্রতা ও বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদ।”

আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করছে ইসরায়েল”—ওমান জিসিসির অভিযোগ

ওমানের প্রতিনিধি বলেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই সমাধান হতে হবে।” তার মতে, ইসরায়েল একতরফাভাবে শান্তিপ্রক্রিয়া ধ্বংস করছে, যা জাতিসংঘ প্রস্তাব ও মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কোনো টেকসই পথ নেই। তারা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। জিসিসির প্রতিনিধি বলেন, “সত্যিকারের শক্তি শোষণ নয়, বরং ন্যায়ের পক্ষে ব্যবহারে। এখন সময় এসেছে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার।”

গাজায় সংঘটিত হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ”—ওআইসি

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের প্রতিনিধি বলেন, “ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, উচ্ছেদ, অনাহার এবং অবরোধের মাধ্যমে গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল নিজেদের সার্বভৌমত্ব আরোপ করতে চাইছে, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন।”

জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ইসরায়েলকে বহিষ্কার করো”—ইরান

ইরানের প্রতিনিধি জাতিসংঘে বলেন, “ইসরায়েলের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নরম নীতির সময় শেষ। জাতিসংঘের সনদের প্রতি বারবার অবজ্ঞার কারণে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও জাতিসংঘ সদস্যপদ স্থগিত করা উচিত।” তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া এবং সেই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনো বাধা না দেয়।

গুতেরেসের সতর্কবার্তা এবং ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “গাজা সংকট এখন চূড়ান্ত ভাঙনসীমায় পৌঁছে গেছে।” তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি জরুরি—নয়তো দুর্ভিক্ষ, গণহত্যা ও শরণার্থী সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

অন্যদিকে, ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন এই সম্মেলনকে “রাজনৈতিক প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, “এই সম্মেলনে বাস্তবতা বিকৃত করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার ও সন্ত্রাসের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।”

যুদ্ধবিরতির চাপ, তবুও ইসরায়েল অনড়

জানা গেছে, বুধবার ইসরায়েল সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তাদের দাবি গাজার কিছু কৌশলগত অঞ্চল থেকে সৈন্য না সরানোর। পাশাপাশি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার কিছু অংশ দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন, যদি হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয়।

এমন এক উত্তপ্ত সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ বৃহস্পতিবার তেল আবিব সফরে যাচ্ছেন। এ সফরের উদ্দেশ্য মূলত যুদ্ধবিরতির পথ বের করা, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতি নিয়ে অনেক মুসলিম দেশের অসন্তোষ রয়েছে।

আগামীর সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের বার্তা

এই সম্মেলনের ফলোআপ অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় অনুষ্ঠিত হবে। আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—ইসরায়েলের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান যেন বিলম্ব না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ও কণ্ঠস্বর গর্জনের এক স্পষ্ট চিত্র। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বরাজনীতি সেই গর্জনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সূত্র:

  • United Nations Official Meeting Reports, July 2025
  • Al Jazeera Middle East News Desk
  • Reuters Middle East Special Bulletin
  • OIC and Arab League Official Statements
  • Human Rights Watch Gaza Conflict Report 2025
  • UN Secretary-General Antonio Guterres’ Official Statement on Gaza Crisis