আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভিযোগে সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদেক আটক, তদন্তে সেনাবাহিনী
- Update Time : ১০:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / ১৮৮ Time View

আওয়ামী লীগের চার শতাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর সাদেকুল হক সাদেককে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চলছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “মেজর সাদেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা উদ্বেগজনক। সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষ প্রমাণিত হলে বাহিনীর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, মেজর সাদেক কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসে অবস্থিত ৩৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। তবে গত পাঁচ মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রী পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) সুমাইয়া জাফরিনও একইভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টার ভাড়া নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রায় ৪০০ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেন মেজর সাদেক। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে ও তার স্ত্রীকে আটক করে।
এই ঘটনায় প্রশাসন ও সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মরত সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে অভ্যন্তরীণ মহলে আলোচনা চলছে।
ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “সেনাবাহিনী সব সময় রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। বাহিনীর কোনো সদস্য যদি নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”
সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে প্রশ্ন ওঠা এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো নজিরবিহীন নয়, তবে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বাহিনী এমন কোনো কার্যকলাপকে সহ্য করতে নারাজ যা তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সামরিক সূত্র মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না। তবে মেজর সাদেক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রসেসও শুরু করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।













