রাশিয়ার উপকূলে ৮.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতায় কয়েক দেশ
- Update Time : ১১:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / ১৩১ Time View

রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা প্রথমে ৮.৭ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৮.৮ হিসেবে জানানো হয়। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৮ কিলোমিটার গভীরে। এই অগভীর গভীরতা ভূমিকম্পটির ধ্বংসাত্মক প্রভাব বাড়িয়ে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা যায়, ভূমিকম্পের পরপরই রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। রাশিয়ার আঞ্চলিক জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রী সের্গেই লেবেদেভ জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের ফলে ৩ থেকে ৪ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পে রাশিয়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস।
রাশিয়ার পাশাপাশি জাপানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও জারি করা হয়েছে সুনামির সতর্কতা। হোক্কাইডো থেকে কিউশু পর্যন্ত উপকূলজুড়ে জনগণকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানি আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, সুনামির ঢেউ হতে পারে ৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু, যা নিম্নাঞ্চলে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, আলাস্কার কিছু অংশ, হাওয়াই এবং গুয়ামেও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। হাওয়াইয়ের রাজধানী হনুলুলুতে জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে সুনামির আশঙ্কা সম্পর্কে অবহিত করে জানিয়েছে—“ধ্বংসাত্মক সুনামির ঢেউ প্রত্যাশিত, পদক্ষেপ নিন!”
হাওয়াই এবং গুয়ামের কিছু উপকূলীয় এলাকা ইতোমধ্যেই খালি করে ফেলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার বাহিনী ও নৌবাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঢেউগুলো ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে উপকূলে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূমিকম্পটি ‘মেগাথ্রাস্ট’ বা বিশাল টেকটোনিক প্লেট স্লিপের কারণে সৃষ্ট, যা সাধারণত ভয়াবহ সুনামির জন্য দায়ী হয়ে থাকে। অতীতে ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্প ও সুনামির মতো ঘটনাও এমন মেগাথ্রাস্ট থেকে উৎপন্ন হয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাশিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় শহরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলো জরুরি নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণকে আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।













