মেহের আফরোজ শাওনের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে নেটজুড়ে তুমুল সমালোচনা ও ট্রল
- Update Time : ১২:২২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / ১৪৮ Time View

আলোচিত-সমালোচিত অভিনেত্রী ও আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মী মেহের আফরোজ শাওনের সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার পতনের পরবর্তী উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে তার দেওয়া পোস্টে শহিদদের ব্যঙ্গ করার অভিযোগ তুলে শাওনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিতর্কিত পোস্ট এবং ব্যঙ্গ
গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শাওন লেখেন:
“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আসলে কিছুই করে নাই। আপনার দাদা শ্বশুর মাথায় ঠাডা পইড়া মারা গেছেন।”
পোস্টের সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন হ্যাশট্যাগ – #তুই_রাজাকার।
নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, এই বক্তব্য দিয়ে শাওন মূলত আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের এক পূর্ববর্তী মন্তব্যকে ব্যঙ্গ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ করেছে, তা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জঘন্যতাকেও ছাপিয়ে গেছে।” যদিও পরে আসিফ নজরুল নিজের ভাষার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরিষ্কার করে বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪—উভয় নৃশংসতাই ভয়াবহ, কিন্তু তুলনাযোগ্য নয়।
তীব্র প্রতিক্রিয়া
তবে শাওনের পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে:
“সে কি বলতে চাচ্ছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতরা মাথায় ‘ঠাডা পইড়া’ মারা গেছেন? এতগুলো প্রাণহানিকে সে কৌতুকে রূপ দিলো?”
নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন, শহিদদের অবমাননা করে শাওন রাজনীতির ময়দানে নিজের প্রাসঙ্গিকতা জাহির করতে চাইছেন।
পুরনো বিতর্ক আবার সামনে
শাওনের অতীত কর্মকাণ্ডও এখন আবার আলোচনায় এসেছে।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি ছোঁড়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
- ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ভোটে ‘নৌকা’র হয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
- ২০২৪ সালের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
- ব্যক্তিজীবনে বিতর্কিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বহুদিন ধরে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিজীবনের দ্বৈততা নিয়েও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাকে।
গ্রেফতার ও জামিন
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
বিশ্লেষণ
শাওনের সাম্প্রতিক পোস্টটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে। কেউ বলছেন, এটি তার ‘আওয়ামী আনুগত্য’র প্রমাণ দিতে সচেতন প্রয়াস; কেউ বলছেন, এটি অজ্ঞতাপ্রসূত স্পর্ধা।
তবে যা-ই হোক, শহিদদের অবমাননা, গণআন্দোলনের ব্যঙ্গ এবং অমানবিক ট্রল করার চেষ্টা—এই পোস্ট তাকে আবারও এক বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত করেছে।













