সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বেআইনি ও জাল রায়’ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • / ১১১ Time View

56166733ca5b95118387ec467eaa5e50 6889a7f816f3f

56166733ca5b95118387ec467eaa5e50 6889a7f816f3f

বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘বিদ্বেষপূর্ণ বেআইনি রায়’ প্রদান ও ‘জাল রায়’ তৈরির অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া মামলাটিতে পুলিশ খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানির সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না, যা এ ধরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রমধর্মী ও উদ্বেগজনক বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে তাকে জুলাই মাসে সংঘটিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিতর্কিত রায় প্রদান এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আরেক মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার নিয়োগ কার্যকর হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রায় আট মাস দায়িত্ব পালন করে ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। বিচারপতি খায়রুল হক সর্বাধিক আলোচনায় আসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে, যা পরবর্তীকালে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ পাল্টে দেয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সেই সময় দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে। মামলার বাদীদের দাবি, ওই রায় ছিল ‘অবৈধ’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, এবং ‘জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী’। মামলায় আরও বলা হয়, রায়টি আদালতের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয় এবং তাতে সংবিধানের কয়েকটি মৌলিক ধারার অবমূল্যায়ন করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে খায়রুল হকের গ্রেপ্তার এবং ধারাবাহিক রিমান্ড আদেশ দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকেই এটিকে ‘প্রতীকী ন্যায়বিচারের সূচনা’ হিসেবে দেখলেও, অন্য অংশ এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও অতীতের বিচারকদের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতির রিমান্ডে যাওয়া দেশের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। এটি শুধু আইনের শাসনের প্রশ্নই নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিধি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জটিল সম্পর্ককেও নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সংবিধান সম্মতভাবে পরিচালিত হবে—এই প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষের।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘বেআইনি ও জাল রায়’ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

Update Time : ১১:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

56166733ca5b95118387ec467eaa5e50 6889a7f816f3f

বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘বিদ্বেষপূর্ণ বেআইনি রায়’ প্রদান ও ‘জাল রায়’ তৈরির অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া মামলাটিতে পুলিশ খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানির সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না, যা এ ধরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ব্যতিক্রমধর্মী ও উদ্বেগজনক বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে তাকে জুলাই মাসে সংঘটিত রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিতর্কিত রায় প্রদান এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আরেক মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার নিয়োগ কার্যকর হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রায় আট মাস দায়িত্ব পালন করে ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। বিচারপতি খায়রুল হক সর্বাধিক আলোচনায় আসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে, যা পরবর্তীকালে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ পাল্টে দেয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সেই সময় দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে। মামলার বাদীদের দাবি, ওই রায় ছিল ‘অবৈধ’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, এবং ‘জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী’। মামলায় আরও বলা হয়, রায়টি আদালতের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয় এবং তাতে সংবিধানের কয়েকটি মৌলিক ধারার অবমূল্যায়ন করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে খায়রুল হকের গ্রেপ্তার এবং ধারাবাহিক রিমান্ড আদেশ দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকেই এটিকে ‘প্রতীকী ন্যায়বিচারের সূচনা’ হিসেবে দেখলেও, অন্য অংশ এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও অতীতের বিচারকদের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সাবেক প্রধান বিচারপতির রিমান্ডে যাওয়া দেশের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। এটি শুধু আইনের শাসনের প্রশ্নই নয়, বরং ন্যায়বিচারের পরিধি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জটিল সম্পর্ককেও নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সংবিধান সম্মতভাবে পরিচালিত হবে—এই প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষের।