সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএফআইসি ব্যাংকের বন্ডে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম,সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি ও ছেলেকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • / ১৭৩ Time View

salman f rahman son 2507301043

salman f rahman son 2507301043

আইএফআইসি ব্যাংকের বন্ডে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম: সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি ছেলেকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা, আজীবন শেয়ারবাজার থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের আলোচিত ‘শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ ইস্যু নিয়ে বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) কমিশনের এক জরুরি সভায় এ সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচালক সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা এবং আজীবন শেয়ারবাজার থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া তার ছেলে সায়ান ফজলুর রহমানকেও ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। পরে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

কমিশনের তদন্তে উঠে আসে, ‘শ্রীপুর টাউনশিপ বন্ড’-এর অনুমোদন, ব্যবহার এবং লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নৈতিকতা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বন্ডটির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আহমেদকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।

প্রতিষ্ঠান হিসেবেও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-কে সতর্ক করেছে বিএসইসি। একই সঙ্গে তৎকালীন মনোনীত পরিচালক এ আর এম নাজমুস সাকিব, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল (এনডিসি), কাওমরুন নাহার আহমেদ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাসকেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তাদের অবস্থান কঠোর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা বিনিয়োগকারীর স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে কমিশন।

অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে যে নীরবতা কাজ করছিল, এই পদক্ষেপ তা ভাঙতে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, এই তদন্ত যেন কেবল শাস্তি দিয়ে শেষ না হয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে আইএফআইসি বন্ড কেলেঙ্কারিতে নেয়া এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থাপনায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আইএফআইসি ব্যাংকের বন্ডে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম,সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি ও ছেলেকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা

Update Time : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

salman f rahman son 2507301043

আইএফআইসি ব্যাংকের বন্ডে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম: সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি ছেলেকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা, আজীবন শেয়ারবাজার থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনায় আইএফআইসি ব্যাংকের আলোচিত ‘শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ ইস্যু নিয়ে বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) কমিশনের এক জরুরি সভায় এ সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচালক সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা এবং আজীবন শেয়ারবাজার থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া তার ছেলে সায়ান ফজলুর রহমানকেও ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। পরে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

কমিশনের তদন্তে উঠে আসে, ‘শ্রীপুর টাউনশিপ বন্ড’-এর অনুমোদন, ব্যবহার এবং লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও নৈতিকতা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বন্ডটির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছে বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আহমেদকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।

প্রতিষ্ঠান হিসেবেও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-কে সতর্ক করেছে বিএসইসি। একই সঙ্গে তৎকালীন মনোনীত পরিচালক এ আর এম নাজমুস সাকিব, মো. গোলাম মোস্তফা, মো. জাফর ইকবাল (এনডিসি), কাওমরুন নাহার আহমেদ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক সুধাংশু শেখর বিশ্বাসকেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য তাদের অবস্থান কঠোর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা বিনিয়োগকারীর স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে কমিশন।

অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির সৃষ্টি করবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে যে নীরবতা কাজ করছিল, এই পদক্ষেপ তা ভাঙতে সহায়ক হবে। তবে একইসঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, এই তদন্ত যেন কেবল শাস্তি দিয়ে শেষ না হয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে আইএফআইসি বন্ড কেলেঙ্কারিতে নেয়া এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থাপনায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।