সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক এমপি বাহার ও মেয়ের ১৭ কোটি টাকাসহ ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ: সিআইডির অর্থপাচার তদন্তে নতুন মোড়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ২২৮ Time View

1753718477 74e67b7c46232418fa536130525a8ef9

1753718477 74e67b7c46232418fa536130525a8ef9

অর্থপাচারের অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তাঁর কন্যা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার নামে থাকা ব্যাংক হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির তথ্য মতে, তাদের এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জালিয়াতি, কমিশনভিত্তিক অবৈধ অর্থ গ্রহণ, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাহার ও সূচনার মোট ১৭টি ব্যাংকে থাকা ৫৩টি হিসাবই এই তদন্তের আওতায় এসেছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এই হিসাবগুলো ফ্রিজ করার আদেশ দেন। এতে বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়েই এই অর্থের উৎস এবং তা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বাহাউদ্দিন বাহার এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস ও লেনদেন কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আর্থিক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও মেয়রের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থপাচার ও জালিয়াতির মতো অভিযোগের তদন্তে এগিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে অনেকে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এমন ঘটনা যদি দৃষ্টান্তমূলকভাবে নিষ্পত্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের ওপর জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বাহার ও সূচনার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, যার সঙ্গে বিদেশে পাঠানো অর্থ, প্রপার্টি বিনিয়োগ ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ও জড়িত। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি যাচাই করে দ্রুতই মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, অভিযুক্ত বাহাউদ্দিন বাহার ও তাহসিন সূচনার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই তদন্তের পরিণতি কী হতে পারে এবং আদৌ উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে গোটা দেশের নজর এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কতটা শক্ত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাবেক এমপি বাহার ও মেয়ের ১৭ কোটি টাকাসহ ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ: সিআইডির অর্থপাচার তদন্তে নতুন মোড়

Update Time : ১১:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

1753718477 74e67b7c46232418fa536130525a8ef9

অর্থপাচারের অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তাঁর কন্যা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার নামে থাকা ব্যাংক হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির তথ্য মতে, তাদের এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জালিয়াতি, কমিশনভিত্তিক অবৈধ অর্থ গ্রহণ, হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাহার ও সূচনার মোট ১৭টি ব্যাংকে থাকা ৫৩টি হিসাবই এই তদন্তের আওতায় এসেছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এই হিসাবগুলো ফ্রিজ করার আদেশ দেন। এতে বলা হয়, তদন্ত চলাকালীন সময়েই এই অর্থের উৎস এবং তা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বাহাউদ্দিন বাহার এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস ও লেনদেন কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আর্থিক অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও মেয়রের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থপাচার ও জালিয়াতির মতো অভিযোগের তদন্তে এগিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে অনেকে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এমন ঘটনা যদি দৃষ্টান্তমূলকভাবে নিষ্পত্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে দুর্নীতি দমন কার্যক্রমের ওপর জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বাহার ও সূচনার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, যার সঙ্গে বিদেশে পাঠানো অর্থ, প্রপার্টি বিনিয়োগ ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ও জড়িত। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি যাচাই করে দ্রুতই মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, অভিযুক্ত বাহাউদ্দিন বাহার ও তাহসিন সূচনার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই তদন্তের পরিণতি কী হতে পারে এবং আদৌ উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে গোটা দেশের নজর এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কতটা শক্ত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।