সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ১২৭ Time View

9 20250729103537

9 20250729103537

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না— এমন কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। সোমবার (২৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বার্তা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো।

এই বক্তব্যকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও অনড় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ বাস্তবায়নের শর্ত জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনের আয়োজন ছিল সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হয়।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটি সরাসরি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা কোনোভাবেই এমন একটি অবস্থান নিতে পারি না যেখানে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষিত হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি রাজতন্ত্রের জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে গাজায় রক্তপাত বন্ধ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করি, আজকে যে ঐক্যমতের বার্তা দেওয়া হলো, তা আগামী দিনগুলোতেও টিকে থাকবে এবং এটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি গতি আনবে। সেই গতিই হয়তো ভবিষ্যতে স্বাভাবিককরণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “গাজায় প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, শিশুদের কান্না থামছে না, হাসপাতাল-বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো বাস্তবতা নেই, এর কোনো নৈতিক ভিত্তিও নেই।” তার মতে, “যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে অচল থাকবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কিছু আরব দেশের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রবণতার বিপরীতে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সৌদি আরবের এই স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এটি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব বিশ্বে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেশটির সক্রিয়তার নতুন ইঙ্গিত বহন করছে। বহু বছর ধরে ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরব নীতিগত সমর্থন দিয়ে এলেও, এবার সরাসরি ‘স্বীকৃতি-পরবর্তী নয়, বরং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী স্বীকৃতি’ নীতিতে অনড় থাকার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে একটি মোড়বদলের ইঙ্গিত দিতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ১২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

9 20250729103537

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না— এমন কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। সোমবার (২৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বার্তা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো।

এই বক্তব্যকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও অনড় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ বাস্তবায়নের শর্ত জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্মেলনের আয়োজন ছিল সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হয়।

প্রিন্স ফয়সাল বলেন, “ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটি সরাসরি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা কোনোভাবেই এমন একটি অবস্থান নিতে পারি না যেখানে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষিত হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি রাজতন্ত্রের জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে গাজায় রক্তপাত বন্ধ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করি, আজকে যে ঐক্যমতের বার্তা দেওয়া হলো, তা আগামী দিনগুলোতেও টিকে থাকবে এবং এটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি গতি আনবে। সেই গতিই হয়তো ভবিষ্যতে স্বাভাবিককরণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “গাজায় প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, শিশুদের কান্না থামছে না, হাসপাতাল-বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো বাস্তবতা নেই, এর কোনো নৈতিক ভিত্তিও নেই।” তার মতে, “যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে অচল থাকবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কিছু আরব দেশের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রবণতার বিপরীতে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সৌদি আরবের এই স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এটি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব বিশ্বে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেশটির সক্রিয়তার নতুন ইঙ্গিত বহন করছে। বহু বছর ধরে ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরব নীতিগত সমর্থন দিয়ে এলেও, এবার সরাসরি ‘স্বীকৃতি-পরবর্তী নয়, বরং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী স্বীকৃতি’ নীতিতে অনড় থাকার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে একটি মোড়বদলের ইঙ্গিত দিতে পারে।