সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর স্মরণে: আমরা কোথায় আছি?

বিল্লাল হোসেন
  • Update Time : ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১৫৬ Time View

DIARY 2707

DIARY 2707

গতকাল একটি স্মরণ সভায় উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এটি ছিল একজন সদ্যপ্রয়াত মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জীবদ্দশায় সমাজের কল্যাণে বহু অবদান রেখেছিলেন। তাঁর কর্মের সফলতা, নৈতিকতা, ও মানবিক আচরণ—সব মিলিয়ে এক অনন্য জীবন কাহিনি। অনুষ্ঠানজুড়ে বিভিন্ন বক্তার মুখে তাঁর সৎচরিত্র, নিষ্ঠা ও অবদানের কথা শুনতে শুনতে মনটা হঠাৎ থমকে গেল। ভাবলাম, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমাদের উদ্দেশ্য কী? আমরা কি নিজেদের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করি?

এই প্রশ্নগুলো হৃদয়ে দোলা দিয়ে গেল। সত্যিই তো—আমরা সবাই জানি, মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু তবুও যেন জীবনযাত্রায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে যাই যে, মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তাই করি না। অথচ প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের মৃত্যুর দিকেই এক কদম করে এগিয়ে দেয়।

আল্লাহর স্মরণ মৃত্যুচিন্তা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

আবার, অপর এক আয়াতে তিনি বলেন:

তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পৌঁছে যাবে—even if you are in strong towers.”
(সূরা আননিসা, আয়াত ৭৮)

এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়। যত বড় সফলতাই আমরা অর্জন করি না কেন, একদিন আমাদের সবাইকেই এই জগত ছেড়ে যেতে হবে।

প্রিয় নবীর পরামর্শ

আমাদের প্রিয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর স্মরণকে ঈমানদার ব্যক্তির জন্য উত্তম পাথেয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:

তোমরা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করো, যা যাবতীয় আনন্দ বিনষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ মৃত্যুই সকল লালসা মোহ কেটে দেয়)
(তিরমিযি, হাদিস ২৩১৭)

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

স্মরণ

করো সেই মৃত্যুকে, যা সকল স্বাদের ইতি টেনে দেয়।
(মুসনাদে আহমদ)

এ কথা স্পষ্ট যে, মৃত্যু আমাদের ঘুমিয়ে থাকা হৃদয়কে জাগ্রত করে, অহংকার ভেঙে দেয় এবং আত্মার শুদ্ধতা ফিরিয়ে আনে।

আমাদের করণীয় কী?

এই স্মরণসভা থেকে ফিরে আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম—আমার জীবন কী আল্লাহর পথে ব্যবহৃত হচ্ছে? আমি কি এমন কিছু রেখে যেতে পারবো যা মৃত্যুর পরও মানুষ স্মরণ করবে? আমার সময়, অর্থ, জ্ঞান—সবই কি শুধু দুনিয়ার পেছনে ব্যয় হচ্ছে, না আখিরাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছি?

মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বেশি দরকার, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়া। কোরআনের ভাষায় সফল সেই ব্যক্তি—

“…যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে প্রকৃত সফল।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

আমাদের সবাইকে উচিত, জীবনের প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। অন্যের জন্য কিছু রেখে যাওয়া, সন্তানকে সৎপথে লালন করা, সমাজের কল্যাণে কাজ করা—এসবই এমন আমল যা মৃত্যুর পরও আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে।

শেষ কথা

গতকালের সভা আমাকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছে—জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ আমরা প্রায়ই তা ভুলে যাই। মৃত্যু অনিবার্য—কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কী প্রস্তুত? আমাদের প্রত্যেককে উচিত নিয়মিত নিজের মৃত্যু চিন্তা করা, তওবা করা এবং জীবনের লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করা। এভাবেই আমরা হতে পারি প্রকৃত সফল।

@billal hossian’s diary

27 July 2025

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিল্লাল হোসেন

বিল্লাল হোসেন, একজন প্রজ্ঞাবান পেশাজীবী, যিনি গণিতের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তার আর্থিক খাতে যাত্রা তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিয়ে গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-রাজি ব্যাংকিং Inc. এবং ব্যাংক-আল-বিলাদে বিদেশী সম্পর্ক ও করেসপন্ডেন্ট মেইন্টেনেন্স অফিসার হিসেবে। প্রথাগত অর্থনীতির গণ্ডির বাইরে, বিল্লাল একজন প্রখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে মননশীল কলাম ও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করে। তার দক্ষতা বিস্তৃত বিষয় জুড়ে রয়েছে, যেমন অর্থনীতির জটিলতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট, রেমিটেন্স, রিজার্ভ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত দিক। বিল্লাল তার লেখায় একটি অনন্য বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, যা ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে অর্জিত বাস্তব জ্ঞানকে একত্রিত করে একাডেমিক কঠোরতার সাথে। তার প্রবন্ধগুলো শুধুমাত্র জটিল বিষয়গুলির উপর গভীর বোঝাপড়ার প্রতিফলন নয়, বরং পাঠকদের জন্য জ্ঞানপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা তত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। বিল্লাল হোসেনের অবদান তার প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে যে, তিনি আমাদের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের জটিলতাগুলি উন্মোচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি বিস্তৃত এবং আরও সূক্ষ্ম বোঝাপড়ার দিকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

মৃত্যুর স্মরণে: আমরা কোথায় আছি?

Update Time : ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

DIARY 2707

গতকাল একটি স্মরণ সভায় উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এটি ছিল একজন সদ্যপ্রয়াত মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জীবদ্দশায় সমাজের কল্যাণে বহু অবদান রেখেছিলেন। তাঁর কর্মের সফলতা, নৈতিকতা, ও মানবিক আচরণ—সব মিলিয়ে এক অনন্য জীবন কাহিনি। অনুষ্ঠানজুড়ে বিভিন্ন বক্তার মুখে তাঁর সৎচরিত্র, নিষ্ঠা ও অবদানের কথা শুনতে শুনতে মনটা হঠাৎ থমকে গেল। ভাবলাম, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমাদের উদ্দেশ্য কী? আমরা কি নিজেদের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করি?

এই প্রশ্নগুলো হৃদয়ে দোলা দিয়ে গেল। সত্যিই তো—আমরা সবাই জানি, মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু তবুও যেন জীবনযাত্রায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে যাই যে, মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তাই করি না। অথচ প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের মৃত্যুর দিকেই এক কদম করে এগিয়ে দেয়।

আল্লাহর স্মরণ মৃত্যুচিন্তা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

আবার, অপর এক আয়াতে তিনি বলেন:

তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পৌঁছে যাবে—even if you are in strong towers.”
(সূরা আননিসা, আয়াত ৭৮)

এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়। যত বড় সফলতাই আমরা অর্জন করি না কেন, একদিন আমাদের সবাইকেই এই জগত ছেড়ে যেতে হবে।

প্রিয় নবীর পরামর্শ

আমাদের প্রিয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর স্মরণকে ঈমানদার ব্যক্তির জন্য উত্তম পাথেয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:

তোমরা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করো, যা যাবতীয় আনন্দ বিনষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ মৃত্যুই সকল লালসা মোহ কেটে দেয়)
(তিরমিযি, হাদিস ২৩১৭)

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

স্মরণ

করো সেই মৃত্যুকে, যা সকল স্বাদের ইতি টেনে দেয়।
(মুসনাদে আহমদ)

এ কথা স্পষ্ট যে, মৃত্যু আমাদের ঘুমিয়ে থাকা হৃদয়কে জাগ্রত করে, অহংকার ভেঙে দেয় এবং আত্মার শুদ্ধতা ফিরিয়ে আনে।

আমাদের করণীয় কী?

এই স্মরণসভা থেকে ফিরে আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম—আমার জীবন কী আল্লাহর পথে ব্যবহৃত হচ্ছে? আমি কি এমন কিছু রেখে যেতে পারবো যা মৃত্যুর পরও মানুষ স্মরণ করবে? আমার সময়, অর্থ, জ্ঞান—সবই কি শুধু দুনিয়ার পেছনে ব্যয় হচ্ছে, না আখিরাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছি?

মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বেশি দরকার, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়া। কোরআনের ভাষায় সফল সেই ব্যক্তি—

“…যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে প্রকৃত সফল।
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

আমাদের সবাইকে উচিত, জীবনের প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। অন্যের জন্য কিছু রেখে যাওয়া, সন্তানকে সৎপথে লালন করা, সমাজের কল্যাণে কাজ করা—এসবই এমন আমল যা মৃত্যুর পরও আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে।

শেষ কথা

গতকালের সভা আমাকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছে—জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ আমরা প্রায়ই তা ভুলে যাই। মৃত্যু অনিবার্য—কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কী প্রস্তুত? আমাদের প্রত্যেককে উচিত নিয়মিত নিজের মৃত্যু চিন্তা করা, তওবা করা এবং জীবনের লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করা। এভাবেই আমরা হতে পারি প্রকৃত সফল।

@billal hossian’s diary

27 July 2025