মৃত্যুর স্মরণে: আমরা কোথায় আছি?
- Update Time : ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
- / ১৫৬ Time View

গতকাল একটি স্মরণ সভায় উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। এটি ছিল একজন সদ্যপ্রয়াত মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জীবদ্দশায় সমাজের কল্যাণে বহু অবদান রেখেছিলেন। তাঁর কর্মের সফলতা, নৈতিকতা, ও মানবিক আচরণ—সব মিলিয়ে এক অনন্য জীবন কাহিনি। অনুষ্ঠানজুড়ে বিভিন্ন বক্তার মুখে তাঁর সৎচরিত্র, নিষ্ঠা ও অবদানের কথা শুনতে শুনতে মনটা হঠাৎ থমকে গেল। ভাবলাম, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? আমাদের উদ্দেশ্য কী? আমরা কি নিজেদের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করি?
এই প্রশ্নগুলো হৃদয়ে দোলা দিয়ে গেল। সত্যিই তো—আমরা সবাই জানি, মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু তবুও যেন জীবনযাত্রায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে যাই যে, মৃত্যু সম্পর্কে চিন্তাই করি না। অথচ প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের মৃত্যুর দিকেই এক কদম করে এগিয়ে দেয়।
আল্লাহর স্মরণ ও মৃত্যুচিন্তা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।“
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)
আবার, অপর এক আয়াতে তিনি বলেন:
“তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পৌঁছে যাবে—even if you are in strong towers.”
(সূরা আন–নিসা, আয়াত ৭৮)
এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়। যত বড় সফলতাই আমরা অর্জন করি না কেন, একদিন আমাদের সবাইকেই এই জগত ছেড়ে যেতে হবে।
প্রিয় নবীর পরামর্শ
আমাদের প্রিয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর স্মরণকে ঈমানদার ব্যক্তির জন্য উত্তম পাথেয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
“তোমরা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করো, যা যাবতীয় আনন্দ বিনষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ মৃত্যুই সকল লালসা ও মোহ কেটে দেয়)।“
(তিরমিযি, হাদিস ২৩১৭)
অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“স্মরণ
(মুসনাদে আহমদ)
এ কথা স্পষ্ট যে, মৃত্যু আমাদের ঘুমিয়ে থাকা হৃদয়কে জাগ্রত করে, অহংকার ভেঙে দেয় এবং আত্মার শুদ্ধতা ফিরিয়ে আনে।
আমাদের করণীয় কী?
এই স্মরণসভা থেকে ফিরে আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম—আমার জীবন কী আল্লাহর পথে ব্যবহৃত হচ্ছে? আমি কি এমন কিছু রেখে যেতে পারবো যা মৃত্যুর পরও মানুষ স্মরণ করবে? আমার সময়, অর্থ, জ্ঞান—সবই কি শুধু দুনিয়ার পেছনে ব্যয় হচ্ছে, না আখিরাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছি?
মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বেশি দরকার, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়া। কোরআনের ভাষায় সফল সেই ব্যক্তি—
“…যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে–ই প্রকৃত সফল।“
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)
আমাদের সবাইকে উচিত, জীবনের প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। অন্যের জন্য কিছু রেখে যাওয়া, সন্তানকে সৎপথে লালন করা, সমাজের কল্যাণে কাজ করা—এসবই এমন আমল যা মৃত্যুর পরও আমাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে।
শেষ কথা
গতকালের সভা আমাকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়েছে—জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ আমরা প্রায়ই তা ভুলে যাই। মৃত্যু অনিবার্য—কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কী প্রস্তুত? আমাদের প্রত্যেককে উচিত নিয়মিত নিজের মৃত্যু চিন্তা করা, তওবা করা এবং জীবনের লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করা। এভাবেই আমরা হতে পারি প্রকৃত সফল।
@billal hossian’s diary
27 July 2025













