সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: সরকার আহত-নিহতের সর্বশেষ তালিকা দিলো, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪৫ Time View

86efb5675148bf25380132da5fbcbd27 688365f14633f

86efb5675148bf25380132da5fbcbd27 688365f14633f

 

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। আহত আরও অন্তত ৫০ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সর্বশেষ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে এখনো কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর সাতটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

কোথায় কতজনের মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন নিহতের মধ্যে:

  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি: ১৫ জন
  • সেনাবাহিনীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ): ১৫ জন
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন
  • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার: ১ জন
  • ইউনাইটেড হাসপাতাল: ১ জন

চিকিৎসাধীনদের অবস্থা

বর্তমানে গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় মোট ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থান নিম্নরূপ:

  • বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: ৪০ জন
  • সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ): ৮ জন
  • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন
  • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল: ১ জন

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন কলেজের আকাশে প্রশিক্ষণ চলাকালীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। কলেজ চলাকালীন সময় হওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়।

সরকার সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

দুর্ঘটনার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টিকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। বিমান বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারিগরি ত্রুটি অথবা মানবিক ভুলের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা হয়নি।

আহতদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ

প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আহতদের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকে। বার্ন ইউনিটে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং সিএমএইচে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিদেশি চিকিৎসকদেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

জনমনে উদ্বেগ ক্ষোভ

এ দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেন জনবহুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ চলছিল—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। অনেকে এই ঘটনাকে “নৈতিক অবহেলা” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং আহতদেরকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও একদিনের ছুটি ঘোষণার কথাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এই ট্রাজেডি আমাদের দেশের বিমান নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ প্রটোকল এবং জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে সামরিক মহড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

সবার প্রার্থনা, যারা এখনও বেঁচে আছেন, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন—এবং যেন এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: সরকার আহত-নিহতের সর্বশেষ তালিকা দিলো, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩

Update Time : ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

86efb5675148bf25380132da5fbcbd27 688365f14633f

 

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। আহত আরও অন্তত ৫০ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সর্বশেষ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে এখনো কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর সাতটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

কোথায় কতজনের মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন নিহতের মধ্যে:

  • ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি: ১৫ জন
  • সেনাবাহিনীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ): ১৫ জন
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন
  • লুবানা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার: ১ জন
  • ইউনাইটেড হাসপাতাল: ১ জন

চিকিৎসাধীনদের অবস্থা

বর্তমানে গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় মোট ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থান নিম্নরূপ:

  • বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: ৪০ জন
  • সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ): ৮ জন
  • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন
  • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল: ১ জন

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন কলেজের আকাশে প্রশিক্ষণ চলাকালীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। কলেজ চলাকালীন সময় হওয়ায় হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়।

সরকার সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া

দুর্ঘটনার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টিকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। বিমান বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারিগরি ত্রুটি অথবা মানবিক ভুলের কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা হয়নি।

আহতদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ

প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আহতদের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না থাকে। বার্ন ইউনিটে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং সিএমএইচে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিদেশি চিকিৎসকদেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

জনমনে উদ্বেগ ক্ষোভ

এ দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেন জনবহুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ চলছিল—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। অনেকে এই ঘটনাকে “নৈতিক অবহেলা” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং আহতদেরকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন ও একদিনের ছুটি ঘোষণার কথাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এই ট্রাজেডি আমাদের দেশের বিমান নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ প্রটোকল এবং জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে সামরিক মহড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

সবার প্রার্থনা, যারা এখনও বেঁচে আছেন, তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন—এবং যেন এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে।