“পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে”: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- Update Time : ১০:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / ১৭১ Time View

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে অতীত স্মরণে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলাম, তা ছিল ঐক্যের প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চেতনার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়াস। কিন্তু এক বছর না যেতেই ফের পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো নানারকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে, যার লক্ষণ এখন স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে।”
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এ বৈঠকে গভীর আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রেরই অংশ। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য আরও সুস্পষ্ট হওয়া জরুরি। যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থাকতে চায়, তারা এই বিভক্তিকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে।”
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আরও ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংলাপ ও সর্বদলীয় বৈঠকের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
- রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন
- গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি
- এবি পার্টির মজিবুর রহমান
- নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার
- গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর
- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ
- খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের
- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর তানিয়া রব
- ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম
- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশীদ ফিরোজ
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র
রুহিন হোসেন প্রিন্স
- গণফোরামের মিজানুর রহমান
এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট:
এই বৈঠক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট বার্তা—দেশে আর কোনোভাবেই অতীতের প্রহসনের নির্বাচন, দমন-পীড়ন কিংবা স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণ করতে আগ্রহী। তবে প্রধান উপদেষ্টার শঙ্কা ও মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে—জনগণকে বিভ্রান্ত করে একটি অগণতান্ত্রিক শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। সে কারণে গণঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এখনই সময়োপযোগী পদক্ষেপ জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।













