সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ দফা দাবিতে উত্তাল মাইলস্টোন কলেজ: বিমান দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / ২৫৬ Time View

7f5c3e763e4a0bcd7055f17908462280 687f1ac608f91

7f5c3e763e4a0bcd7055f17908462280 687f1ac608f91

রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় কলেজের গোল চত্বরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা কোনো সহিংসতা চান না বরং ন্যায়ের পথে, অহিংস পন্থায় নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চায়। তাদের মূলমন্ত্র— ভয় নয়, আমরা চাই ন্যায়বিচার—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। আয়োজকরা আরও বলেন, এই দাবি শুধু মাইলস্টোন কলেজ নয়, বরং দেশের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দফা দাবি হলো:

. দুর্ঘটনায় নিহতদের সঠিক নাম পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ:
এই দাবির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চায়, কোনো তথ্য গোপন না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতভাবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করুক, যেন পরিবার এবং সহপাঠীরা শোকের সঠিক ধারণা ও মর্যাদা দিতে পারে।

. আহতদের নির্ভুল পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ:
বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপ ও ধুলায় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের তালিকা এবং চিকিৎসার অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরা জরুরি, যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

. শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে সেনাবাহিনীর প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা:
ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমে সেনা সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছে। শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া সেনাবাহিনীর নৈতিক দায়িত্ব বলে তারা মনে করেন।

. নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ:
বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়া কোনোভাবেই এড়ানো যেত না—এমন দায় নিতে হবে বিমানবাহিনীকে। এজন্য নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে তারা।

. পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল এবং নতুন নিরাপদ প্লেন চালু:
ছাত্রদের দাবি, বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান বা প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করে আধুনিক, উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ও নিরাপদ বিমান ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

. প্রশিক্ষণ এলাকা পদ্ধতির মানবিক পুনর্বিন্যাস:
শিক্ষার্থীরা মনে করে, জনবহুল আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেরা এলাকায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ পরিচালনা একটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তারা প্রশিক্ষণের স্থান ও পদ্ধতিতে মানবিক ও নিরাপত্তাবান্ধব পরিবর্তনের দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনের মাধ্যমে কেবল নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের জন্য আওয়াজ তুলছে না, বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও জবাবদিহিতার সমাজে পরিণত করার আহ্বান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কলেজ প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অভিভাবক ও সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোকে সমর্থন জানাচ্ছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৬ দফা দাবিতে উত্তাল মাইলস্টোন কলেজ: বিমান দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক

Update Time : ১১:১৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

7f5c3e763e4a0bcd7055f17908462280 687f1ac608f91

রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় কলেজের গোল চত্বরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা কোনো সহিংসতা চান না বরং ন্যায়ের পথে, অহিংস পন্থায় নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চায়। তাদের মূলমন্ত্র— ভয় নয়, আমরা চাই ন্যায়বিচার—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। আয়োজকরা আরও বলেন, এই দাবি শুধু মাইলস্টোন কলেজ নয়, বরং দেশের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দফা দাবি হলো:

. দুর্ঘটনায় নিহতদের সঠিক নাম পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ:
এই দাবির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চায়, কোনো তথ্য গোপন না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতভাবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করুক, যেন পরিবার এবং সহপাঠীরা শোকের সঠিক ধারণা ও মর্যাদা দিতে পারে।

. আহতদের নির্ভুল পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ:
বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপ ও ধুলায় অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের তালিকা এবং চিকিৎসার অবস্থা সবার সামনে তুলে ধরা জরুরি, যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।

. শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে সেনাবাহিনীর প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা:
ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমে সেনা সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছে। শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার মতো অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া সেনাবাহিনীর নৈতিক দায়িত্ব বলে তারা মনে করেন।

. নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ:
বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়া কোনোভাবেই এড়ানো যেত না—এমন দায় নিতে হবে বিমানবাহিনীকে। এজন্য নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে তারা।

. পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল এবং নতুন নিরাপদ প্লেন চালু:
ছাত্রদের দাবি, বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান বা প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করে আধুনিক, উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ও নিরাপদ বিমান ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

. প্রশিক্ষণ এলাকা পদ্ধতির মানবিক পুনর্বিন্যাস:
শিক্ষার্থীরা মনে করে, জনবহুল আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেরা এলাকায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ পরিচালনা একটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তারা প্রশিক্ষণের স্থান ও পদ্ধতিতে মানবিক ও নিরাপত্তাবান্ধব পরিবর্তনের দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনের মাধ্যমে কেবল নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের জন্য আওয়াজ তুলছে না, বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও জবাবদিহিতার সমাজে পরিণত করার আহ্বান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। কলেজ প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে অভিভাবক ও সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোকে সমর্থন জানাচ্ছেন।