উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ চত্বরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত
- Update Time : ০২:১২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- / ১৭১ Time View

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজের ভেতরে একটি প্রশিক্ষণ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সবার মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি করে। দুর্ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই মডেলের প্রশিক্ষণ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার মাধ্যমে।
ঘটনার পরপরই উত্তরা থানার আওতাধীন তুরাগ থানার ডিউটি অফিসার মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অজানা কারণে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়।

বাংলাদেশ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি পাঁচ মিনিট আগে অবগত হই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিই। এখন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
একই সঙ্গে, ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এসব ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, “আমরা দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে খবর পাই যে উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের পাশে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দ্রুতই ঘটনাস্থলে আমাদের তিনটি ইউনিট পৌঁছায় এবং কাজ শুরু করে। আরও দুটি ইউনিট রাস্তায় প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা নিরাপদ করা হয়েছে।”
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা না গেলেও, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে বিমান বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এই দুর্ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ ক্লাস চলছিল না এবং কেউ গুরুতরভাবে আহত হয়নি, তবে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিরসনের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দুর্ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।













