সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত: স্কুল ভবনের প্রধান ফটকে আছড়ে পড়ায় বের হতে পারেনি বেশির ভাগ শিক্ষার্থী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৪ Time View

17604e1f86e794ff14d5b83868df784c 687e257d51a1a

 

17604e1f86e794ff14d5b83868df784c 687e257d51a1a

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দর আলী ভবনের প্রধান ফটকে সজোরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ছিল বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের ফাইটার জেট প্রশিক্ষণ বিমান।

বিমানটি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে নিচতলায় প্রবেশ করে এবং ভবনটির এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর ফলে ভবনের একাংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন ধরে যায় ভবনের বিভিন্ন অংশে। প্রচণ্ড আগুনে ভবনটির বাইরের দেওয়াল কালো হয়ে গেছে, পুড়ে গেছে সামনে থাকা গাছপালাও। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন সেনাসদস্য আগুন ও ধ্বংসস্তূপে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি পশ্চিমমুখী এবং দুটি তলা বিশিষ্ট। মাঝখানে রয়েছে প্রধান ফটক ও দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। বিমানটি সরাসরি সেই ফটকে ধাক্কা দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আটকা পড়ে যায় কারণ ভবনটির চারপাশ লোহার গ্রিল দিয়ে আবদ্ধ। ধোঁয়া, আগুন ও শব্দে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, “আমরা তখন চার নম্বর ভবনে ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাইরে বের হই। দেখি হায়দর আলী ভবনে আগুন জ্বলছে। কয়েকজন মিলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে আগুন নেভাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তীব্র আগুনের কাছে যেতে পারিনি। দেখলাম, কেউ কেউ শরীরে আগুন নিয়ে বের হচ্ছে, আর কেউ ভবনের ভেতরেই আটকে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিমানটি ফটকে ধাক্কা দিয়ে ঢুকে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বের হতে পারেনি। চারপাশ গ্রিল দিয়ে আটকানো ছিল, ফলে নিচতলায় যারা ছিল তারা আটকা পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাদে মই লাগিয়ে ও গ্রিল কেটে শিক্ষার্থীদের বের করে আনেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক শিক্ষার্থী ইমাম বলেন, “ভবনটিতে ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলে। সাধারণত স্কুল ছুটি হয় দুপুর একটার মধ্যে। আজও ছুটি হয়ে গিয়েছিল, কিছু শিক্ষার্থী বেরিয়ে গিয়েছিল, বাকিরা স্যারদের কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই সময়ই হঠাৎ বিমানটি এসে ভবনে আছড়ে পড়ে।”

দুর্ঘটনার পরপরই স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবক, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা একযোগে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি মারাত্মক এবং প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই দুর্ঘটনায় গোটা উত্তরায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে প্রশিক্ষণ বিমানটি জনবহুল একটি স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়লো, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

উত্তরায় ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্ত: স্কুল ভবনের প্রধান ফটকে আছড়ে পড়ায় বের হতে পারেনি বেশির ভাগ শিক্ষার্থী

Update Time : ০৬:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 

17604e1f86e794ff14d5b83868df784c 687e257d51a1a

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দর আলী ভবনের প্রধান ফটকে সজোরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ছিল বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের ফাইটার জেট প্রশিক্ষণ বিমান।

বিমানটি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে নিচতলায় প্রবেশ করে এবং ভবনটির এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর ফলে ভবনের একাংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন ধরে যায় ভবনের বিভিন্ন অংশে। প্রচণ্ড আগুনে ভবনটির বাইরের দেওয়াল কালো হয়ে গেছে, পুড়ে গেছে সামনে থাকা গাছপালাও। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন সেনাসদস্য আগুন ও ধ্বংসস্তূপে আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি পশ্চিমমুখী এবং দুটি তলা বিশিষ্ট। মাঝখানে রয়েছে প্রধান ফটক ও দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। বিমানটি সরাসরি সেই ফটকে ধাক্কা দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আটকা পড়ে যায় কারণ ভবনটির চারপাশ লোহার গ্রিল দিয়ে আবদ্ধ। ধোঁয়া, আগুন ও শব্দে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, “আমরা তখন চার নম্বর ভবনে ক্লাসে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাইরে বের হই। দেখি হায়দর আলী ভবনে আগুন জ্বলছে। কয়েকজন মিলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিয়ে আগুন নেভাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তীব্র আগুনের কাছে যেতে পারিনি। দেখলাম, কেউ কেউ শরীরে আগুন নিয়ে বের হচ্ছে, আর কেউ ভবনের ভেতরেই আটকে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিমানটি ফটকে ধাক্কা দিয়ে ঢুকে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বের হতে পারেনি। চারপাশ গ্রিল দিয়ে আটকানো ছিল, ফলে নিচতলায় যারা ছিল তারা আটকা পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাদে মই লাগিয়ে ও গ্রিল কেটে শিক্ষার্থীদের বের করে আনেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক শিক্ষার্থী ইমাম বলেন, “ভবনটিতে ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলে। সাধারণত স্কুল ছুটি হয় দুপুর একটার মধ্যে। আজও ছুটি হয়ে গিয়েছিল, কিছু শিক্ষার্থী বেরিয়ে গিয়েছিল, বাকিরা স্যারদের কোচিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই সময়ই হঠাৎ বিমানটি এসে ভবনে আছড়ে পড়ে।”

দুর্ঘটনার পরপরই স্কুল চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবক, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা একযোগে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি মারাত্মক এবং প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই দুর্ঘটনায় গোটা উত্তরায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে প্রশিক্ষণ বিমানটি জনবহুল একটি স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়লো, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।