সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালিদকে মৃত ঘোষণা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • / ২২৫ Time View

1752981914 c7c133c686d96212d256f20262cbf3d7

1752981914 c7c133c686d96212d256f20262cbf3d7

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা করা হলো সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালালকে। শনিবার তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কোমায় চলে যান। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘ঘুমন্ত রাজপুত্র’ (The Sleeping Prince) হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদ লন্ডনে থাকাকালে সামরিক ক্যাডেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দুঃস্বপ্নের মতো সেদিনের দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থমকে যায়। দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আল-ওয়ালিদের চেতনা আর কখনও ফিরে আসেনি।

তাঁর পরিবার সব সময় আশাবাদী ছিল। পাঁচ বছর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল-ওয়ালিদ কোমার মধ্যেও সামান্যভাবে আঙুল নাড়াচ্ছেন। সেই মুহূর্তে সারা বিশ্বে আশা জেগেছিল—হয়তো অলৌকিকভাবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর বাবা-মা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলের সহায়তায় আমেরিকা ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।

প্রিন্স খালেদ বিন তালাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়েছেন, রবিবার বাদ আসর রাজধানী রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের মৃত্যু সংবাদে সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #SleepingPrince হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাঁর দীর্ঘ কোমার জীবন, তাঁর পরিবারের অটল ভালোবাসা এবং পিতার সীমাহীন ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

বিশেষ করে প্রিন্স খালেদ বিন তালালের পুত্রস্নেহ ও অধ্যবসায়ের এই দীর্ঘ সংগ্রাম মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই তাঁকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে সম্মান জানাচ্ছেন, যিনি ২০ বছর ধরে প্রতিদিন ছেলের পাশেই থেকেছেন, তাঁকে জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এক মুহূর্তও আশা ছাড়েননি।

সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে শনিবার সকালে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে রাজপরিবার, সাধারণ নাগরিক, রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিশিষ্টজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শোক প্রকাশ করে চলেছেন।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের জীবন একটি ব্যতিক্রমী গল্প—যেখানে মৃত্যু ছিল সব সময় পাশে, কিন্তু ভালোবাসা, আশা ও বিশ্বাস তাকে ২০ বছর ধরে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তার জীবন কেবল রাজকীয়তার নয়, এক অতুলনীয় পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবিও।

সূত্র: সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ, আল-আরাবিয়া, বিবিসি অ্যারাবিক।

বিশ্ব সংবাদ
২০ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালিদের

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা করা হলো সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালালকে। শনিবার তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কোমায় চলে যান। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘ঘুমন্ত রাজপুত্র’ (The Sleeping Prince) হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদ লন্ডনে থাকাকালে সামরিক ক্যাডেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দুঃস্বপ্নের মতো সেদিনের দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থমকে যায়। দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আল-ওয়ালিদের চেতনা আর কখনও ফিরে আসেনি।

তাঁর পরিবার সব সময় আশাবাদী ছিল। পাঁচ বছর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল-ওয়ালিদ কোমার মধ্যেও সামান্যভাবে আঙুল নাড়াচ্ছেন। সেই মুহূর্তে সারা বিশ্বে আশা জেগেছিল—হয়তো অলৌকিকভাবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর বাবা-মা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলের সহায়তায় আমেরিকা ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।

প্রিন্স খালেদ বিন তালাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়েছেন, রবিবার বাদ আসর রাজধানী রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের মৃত্যু সংবাদে সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #SleepingPrince হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাঁর দীর্ঘ কোমার জীবন, তাঁর পরিবারের অটল ভালোবাসা এবং পিতার সীমাহীন ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

বিশেষ করে প্রিন্স খালেদ বিন তালালের পুত্রস্নেহ ও অধ্যবসায়ের এই দীর্ঘ সংগ্রাম মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই তাঁকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে সম্মান জানাচ্ছেন, যিনি ২০ বছর ধরে প্রতিদিন ছেলের পাশেই থেকেছেন, তাঁকে জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এক মুহূর্তও আশা ছাড়েননি।

সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে শনিবার সকালে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে রাজপরিবার, সাধারণ নাগরিক, রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিশিষ্টজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শোক প্রকাশ করে চলেছেন।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের জীবন একটি ব্যতিক্রমী গল্প—যেখানে মৃত্যু ছিল সব সময় পাশে, কিন্তু ভালোবাসা, আশা ও বিশ্বাস তাকে ২০ বছর ধরে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তার জীবন কেবল রাজকীয়তার নয়, এক অতুলনীয় পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবিও।

সূত্র: সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ, আল-আরাবিয়া, বিবিসি অ্যারাবিক।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালিদকে মৃত ঘোষণা

Update Time : ১০:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

1752981914 c7c133c686d96212d256f20262cbf3d7

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা করা হলো সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালালকে। শনিবার তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কোমায় চলে যান। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘ঘুমন্ত রাজপুত্র’ (The Sleeping Prince) হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদ লন্ডনে থাকাকালে সামরিক ক্যাডেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দুঃস্বপ্নের মতো সেদিনের দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থমকে যায়। দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আল-ওয়ালিদের চেতনা আর কখনও ফিরে আসেনি।

তাঁর পরিবার সব সময় আশাবাদী ছিল। পাঁচ বছর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল-ওয়ালিদ কোমার মধ্যেও সামান্যভাবে আঙুল নাড়াচ্ছেন। সেই মুহূর্তে সারা বিশ্বে আশা জেগেছিল—হয়তো অলৌকিকভাবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর বাবা-মা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলের সহায়তায় আমেরিকা ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।

প্রিন্স খালেদ বিন তালাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়েছেন, রবিবার বাদ আসর রাজধানী রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের মৃত্যু সংবাদে সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #SleepingPrince হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাঁর দীর্ঘ কোমার জীবন, তাঁর পরিবারের অটল ভালোবাসা এবং পিতার সীমাহীন ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

বিশেষ করে প্রিন্স খালেদ বিন তালালের পুত্রস্নেহ ও অধ্যবসায়ের এই দীর্ঘ সংগ্রাম মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই তাঁকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে সম্মান জানাচ্ছেন, যিনি ২০ বছর ধরে প্রতিদিন ছেলের পাশেই থেকেছেন, তাঁকে জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এক মুহূর্তও আশা ছাড়েননি।

সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে শনিবার সকালে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে রাজপরিবার, সাধারণ নাগরিক, রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিশিষ্টজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শোক প্রকাশ করে চলেছেন।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের জীবন একটি ব্যতিক্রমী গল্প—যেখানে মৃত্যু ছিল সব সময় পাশে, কিন্তু ভালোবাসা, আশা ও বিশ্বাস তাকে ২০ বছর ধরে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তার জীবন কেবল রাজকীয়তার নয়, এক অতুলনীয় পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবিও।

সূত্র: সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ, আল-আরাবিয়া, বিবিসি অ্যারাবিক।

বিশ্ব সংবাদ
২০ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা সৌদি প্রিন্স আল-ওয়ালিদের

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত ঘোষণা করা হলো সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালালকে। শনিবার তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা প্রিন্স খালেদ বিন তালাল। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কোমায় চলে যান। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘ঘুমন্ত রাজপুত্র’ (The Sleeping Prince) হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদ লন্ডনে থাকাকালে সামরিক ক্যাডেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দুঃস্বপ্নের মতো সেদিনের দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থমকে যায়। দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। চিকিৎসকদের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আল-ওয়ালিদের চেতনা আর কখনও ফিরে আসেনি।

তাঁর পরিবার সব সময় আশাবাদী ছিল। পাঁচ বছর আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল-ওয়ালিদ কোমার মধ্যেও সামান্যভাবে আঙুল নাড়াচ্ছেন। সেই মুহূর্তে সারা বিশ্বে আশা জেগেছিল—হয়তো অলৌকিকভাবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাঁর বাবা-মা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দলের সহায়তায় আমেরিকা ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।

প্রিন্স খালেদ বিন তালাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়েছেন, রবিবার বাদ আসর রাজধানী রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তাঁর পুত্র আল-ওয়ালিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের মৃত্যু সংবাদে সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #SleepingPrince হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তাঁর দীর্ঘ কোমার জীবন, তাঁর পরিবারের অটল ভালোবাসা এবং পিতার সীমাহীন ধৈর্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

বিশেষ করে প্রিন্স খালেদ বিন তালালের পুত্রস্নেহ ও অধ্যবসায়ের এই দীর্ঘ সংগ্রাম মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অনেকেই তাঁকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে সম্মান জানাচ্ছেন, যিনি ২০ বছর ধরে প্রতিদিন ছেলের পাশেই থেকেছেন, তাঁকে জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এক মুহূর্তও আশা ছাড়েননি।

সৌদি গেজেট ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে শনিবার সকালে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে রাজপরিবার, সাধারণ নাগরিক, রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিশিষ্টজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শোক প্রকাশ করে চলেছেন।

প্রিন্স আল-ওয়ালিদের জীবন একটি ব্যতিক্রমী গল্প—যেখানে মৃত্যু ছিল সব সময় পাশে, কিন্তু ভালোবাসা, আশা ও বিশ্বাস তাকে ২০ বছর ধরে ঠেকিয়ে রেখেছিল। তার জীবন কেবল রাজকীয়তার নয়, এক অতুলনীয় পারিবারিক বন্ধন ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবিও।

সূত্র: সৌদি গেজেট, গালফ নিউজ, আল-আরাবিয়া, বিবিসি অ্যারাবিক।