সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবিতে বোরকা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বামপন্থী নেত্রী আলোচনায়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪২ Time View

jabi 20250720090910

jabi 20250720090910

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বোরকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক বামপন্থী নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সোমা ডুমরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রী এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে, যখন সোমা ডুমরি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লেখেন—

“কারো কাছে বোরখা থাকলে ধার দেন, জান্নাতের টিকিটটা কনফার্ম করা দরকার।”

পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই পোস্টটিকে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কটূক্তি এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্যাখ্যামূলক পোস্ট বিতর্কের আরও বিস্তার

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকলে, সোমা ডুমরি একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দিয়ে দাবি করেন,

“রাতে একখান উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদি গোষ্ঠীর সমাবেশের প্রেক্ষাপটে পোস্ট করেছিলাম। সকালে দেখি অনেকে মব তৈরি করতে বসেছে।
বোরখা ধার চেয়ে নাকি ধর্ম অবমাননা করে ফেলেছি।”

তিনি আরও বলেন,

“পোস্ট ডিলিট দিয়েছি, ভাববেন না ভয় পেয়েছি। শুধু এত কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়ার শক্তি নেই।”

তবে তাঁর এই মন্তব্যেও অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, এবং পোস্ট ডিলিট করেও বিতর্ক থামাতে পারেননি।

লিখিত অভিযোগ জমা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন—

“সোমা ডুমরি গতকাল ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয়। পরে পোস্টটি ডিলিট করে নতুন একটি পোস্টে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে।
তার বক্তব্য ধর্মের প্রতি অবমাননাকর এবং উগ্র চিন্তাধারার পরিচায়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় সহনশীল পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের উচিত তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।”

অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

সোমা ডুমরি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন—

“আমি জামায়াতের একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেই পোস্টটি করেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, সমাবেশে গেলে জান্নাতের চাবি পাওয়া যাবে। আমি সেই প্রেক্ষাপটেই বলেছিলাম বোরখা ধার দেওয়ার কথা। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কিছু বলিনি। তবুও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কে এম রাশিদুল আলম বলেন—

“আমি এখনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি, মৌখিকভাবে অভিযোগ এসেছে। লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধিতে এ ধরনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু না থাকলেও অভিযোগ পেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

বোরকা ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য ঘিরে এ বিতর্ক নতুনভাবে শিক্ষাঙ্গনে ধর্মনিরপেক্ষতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনেছে। বিষয়টি এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে—তারা কীভাবে অভিযোগটি গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

বামপন্থী রাজনীতি, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য—এই তিনটির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আরও বিস্তৃত সামাজিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জাবিতে বোরকা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বামপন্থী নেত্রী আলোচনায়

Update Time : ১০:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

jabi 20250720090910

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বোরকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক বামপন্থী নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সোমা ডুমরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রী এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে, যখন সোমা ডুমরি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লেখেন—

“কারো কাছে বোরখা থাকলে ধার দেন, জান্নাতের টিকিটটা কনফার্ম করা দরকার।”

পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই পোস্টটিকে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কটূক্তি এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।

ব্যাখ্যামূলক পোস্ট বিতর্কের আরও বিস্তার

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকলে, সোমা ডুমরি একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দিয়ে দাবি করেন,

“রাতে একখান উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদি গোষ্ঠীর সমাবেশের প্রেক্ষাপটে পোস্ট করেছিলাম। সকালে দেখি অনেকে মব তৈরি করতে বসেছে।
বোরখা ধার চেয়ে নাকি ধর্ম অবমাননা করে ফেলেছি।”

তিনি আরও বলেন,

“পোস্ট ডিলিট দিয়েছি, ভাববেন না ভয় পেয়েছি। শুধু এত কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়ার শক্তি নেই।”

তবে তাঁর এই মন্তব্যেও অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, এবং পোস্ট ডিলিট করেও বিতর্ক থামাতে পারেননি।

লিখিত অভিযোগ জমা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ ব্যাচের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন—

“সোমা ডুমরি গতকাল ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয়। পরে পোস্টটি ডিলিট করে নতুন একটি পোস্টে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে।
তার বক্তব্য ধর্মের প্রতি অবমাননাকর এবং উগ্র চিন্তাধারার পরিচায়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় সহনশীল পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের উচিত তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।”

অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

সোমা ডুমরি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন—

“আমি জামায়াতের একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেই পোস্টটি করেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, সমাবেশে গেলে জান্নাতের চাবি পাওয়া যাবে। আমি সেই প্রেক্ষাপটেই বলেছিলাম বোরখা ধার দেওয়ার কথা। ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কিছু বলিনি। তবুও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক কে এম রাশিদুল আলম বলেন—

“আমি এখনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি, মৌখিকভাবে অভিযোগ এসেছে। লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধিতে এ ধরনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু না থাকলেও অভিযোগ পেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

বোরকা ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য ঘিরে এ বিতর্ক নতুনভাবে শিক্ষাঙ্গনে ধর্মনিরপেক্ষতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনেছে। বিষয়টি এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে—তারা কীভাবে অভিযোগটি গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

বামপন্থী রাজনীতি, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য—এই তিনটির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আরও বিস্তৃত সামাজিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।