সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঞ্জাব–বাংলাদেশ অংশীদারিত্বে আগ্রহী মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ, বললেন—‘আমরা একই গাছের দুটি শাখা’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • / ১০৪ Time View

a2 20250719090856

a2 20250719090856

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ দুই দেশের সম্পর্ককে ‘একই গাছের দুটি শাখা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন—পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবসম্পদে পরস্পরসম্পৃক্ত দুটি জাতি। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পাঞ্জাব সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) লাহোরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে পুনরায় সক্রিয় এবং সম্প্রসারিত করা।

অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সম্ভাবনার দিকগুলো

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাত, মাইক্রোক্রেডিট মডেল এবং নারীর কর্মসংস্থানে অগ্রগতির দৃষ্টান্ত পাঞ্জাবের জন্য অনুকরণীয়। অন্যদিকে, পাঞ্জাবের কৃষিপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও দক্ষতা বিনিময় ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন বাংলাদেশের RMG শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এবং গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্রিক ক্ষুদ্রঋণ মডেলের। এই অভিজ্ঞতা পাঞ্জাবের শিল্পায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রযুক্তি স্থানান্তর কৃষি সহযোগিতার রূপরেখা

বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প-উৎপাদন শৃঙ্খলে মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, পণ্য বৈচিত্র্য এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে যৌথ উদ্যোগের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়।
মরিয়ম নওয়াজ জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাব বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন উন্নতমানের চাল রপ্তানি করেছে এবং ভবিষ্যতেও উচ্চমানের ধান ও চাল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়াও পাঞ্জাব থেকে বাংলাদেশে বিশ্বমানের সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রী রপ্তানির প্রস্তাবও দেন তিনি।

বিনিয়োগ, ভিসা চেম্বার উদ্যোগ

মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণকে পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লাহোর ও ঢাকায় পাকিস্তানবাংলাদেশ

জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ফাস্টট্র্যাক ফ্যাসিলিটেশন মেকানিজম’ গঠনেরও আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের ‘ভিশন-২০৩০’ পরিকল্পনার আওতায় আয়োজিত আসন্ন “প্রথম নারী” শীর্ষক সম্মেলনে পাঞ্জাবের সক্রিয় অংশগ্রহণের আগ্রহও জানান তিনি।

পারস্পরিক সম্মান উন্নয়নমূলক অঙ্গীকার

বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে পাঞ্জাবের সামাজিক কল্যাণ ও প্রাদেশিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ, গঠনমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা সমঝোতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরিপ্রেক্ষিত তাৎপর্য

এই বৈঠক কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক জোরদার এবং বহুমুখী উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ পেছনে ফেলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এমন উদ্যোগ আগামী দিনে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সংহতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি (Samaa TV)

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাঞ্জাব–বাংলাদেশ অংশীদারিত্বে আগ্রহী মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ, বললেন—‘আমরা একই গাছের দুটি শাখা’

Update Time : ১২:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

a2 20250719090856

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ দুই দেশের সম্পর্ককে ‘একই গাছের দুটি শাখা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন—পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবসম্পদে পরস্পরসম্পৃক্ত দুটি জাতি। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পাঞ্জাব সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) লাহোরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে পুনরায় সক্রিয় এবং সম্প্রসারিত করা।

অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সম্ভাবনার দিকগুলো

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাত, মাইক্রোক্রেডিট মডেল এবং নারীর কর্মসংস্থানে অগ্রগতির দৃষ্টান্ত পাঞ্জাবের জন্য অনুকরণীয়। অন্যদিকে, পাঞ্জাবের কৃষিপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও দক্ষতা বিনিময় ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন বাংলাদেশের RMG শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এবং গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্রিক ক্ষুদ্রঋণ মডেলের। এই অভিজ্ঞতা পাঞ্জাবের শিল্পায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রযুক্তি স্থানান্তর কৃষি সহযোগিতার রূপরেখা

বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প-উৎপাদন শৃঙ্খলে মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, পণ্য বৈচিত্র্য এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে যৌথ উদ্যোগের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়।
মরিয়ম নওয়াজ জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাব বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন উন্নতমানের চাল রপ্তানি করেছে এবং ভবিষ্যতেও উচ্চমানের ধান ও চাল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়াও পাঞ্জাব থেকে বাংলাদেশে বিশ্বমানের সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রী রপ্তানির প্রস্তাবও দেন তিনি।

বিনিয়োগ, ভিসা চেম্বার উদ্যোগ

মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণকে পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লাহোর ও ঢাকায় পাকিস্তানবাংলাদেশ

জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ফাস্টট্র্যাক ফ্যাসিলিটেশন মেকানিজম’ গঠনেরও আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের ‘ভিশন-২০৩০’ পরিকল্পনার আওতায় আয়োজিত আসন্ন “প্রথম নারী” শীর্ষক সম্মেলনে পাঞ্জাবের সক্রিয় অংশগ্রহণের আগ্রহও জানান তিনি।

পারস্পরিক সম্মান উন্নয়নমূলক অঙ্গীকার

বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে পাঞ্জাবের সামাজিক কল্যাণ ও প্রাদেশিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ, গঠনমূলক ও অংশীদারিত্বভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা সমঝোতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরিপ্রেক্ষিত তাৎপর্য

এই বৈঠক কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক জোরদার এবং বহুমুখী উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ পেছনে ফেলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এমন উদ্যোগ আগামী দিনে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সংহতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি (Samaa TV)