সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“ওপারে ভালো থাকিস ভাই, তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ”: জুলাই বিপ্লবের শহীদ জিল্লুর রহমানকে স্মরণে নাফসিন মেহেনাজ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৫ Time View

WhatsApp Image 2025 07 18 at 22559 PM 2507180828

WhatsApp Image 2025 07 18 at 22559 PM 2507180828

ওপারে ভালো থাকিস ভাই, তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ”: জুলাই বিপ্লবের শহীদ জিল্লুর রহমানকে স্মরণে নাফসিন মেহেনাজ
জুলাই বিপ্লবের এক বছর: সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় ঝরল অশ্রু অঙ্গীকার

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলন, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে ইতিহাসে পরিচিতি পায়, তার প্রথম বার্ষিকীতে স্মরণ করা হলো শহীদ ছাত্রদের। বিশেষ করে ঢাকা কলেজের মেধাবী ছাত্র জিল্লুর রহমান, যিনি আন্দোলনের এক উত্তপ্ত মুহূর্তে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, তাঁকে ঘিরেই আজ আবারও জেগে উঠেছে প্রতিবাদী আবেগ।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে এসেছে আবেগঘন স্মৃতিচারণা, শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের ঝড়। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সেই আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন:

মনে আছে সেই দিনের কথা? ১৮ জুলাই, যখন আমাদের ভাই জিল্লুর শহীদ হল, আমি ব্র্যাকের উপরতলা থেকে দেখছিলাম তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চোখের সামনে সব ভেঙে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটা কথাই বলছিলাম
জালিমের বাচ্চারা আমার ভাইকে মেরে ফেলছে!’”

তিনি আরও লিখেছেন—

ওপারে ভালো থাকিস ভাইতোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ।

এই কয়েকটি বাক্যই যেন সেই দিনের শোক, ক্ষোভ ও প্রতিজ্ঞাকে পুনর্জীবিত করেছে। তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ পোস্টটিতে মন্তব্য ও শেয়ার করে তাদের নিজস্ব স্মৃতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শহীদ জিল্লুরের আত্মদান: একটি গণজাগরণের সূচনা

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ, দমনমূলক আইনের প্রতিবাদ ও ছাত্র অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে আসে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমান ফার্মগেট মোড়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তার মৃত্যুই আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল, প্রতিবাদ, অবস্থান ও সংঘর্ষে জড়ায়, যা দ্রুতই রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী এক গণঅভ্যুত্থানে।

সেদিনের সেই বিক্ষোভ ছিল শুধু একটি ছাত্রের মৃত্যুতে শোক নয়; ছিল গোটা একটি প্রজন্মের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অভূতপূর্ব সাহস। ‘জুলাই বিপ্লব’ শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের প্রতীক, ছাত্র সমাজের চেতনাবাহী এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সামাজিক মাধ্যমজুড়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

নাফসিন মেহেনাজের পোস্টের মন্তব্য ঘরে দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও সহযোদ্ধাদের চোখ ভেজানো অনুভূতি—
“তোর রক্ত বৃথা যাবে না ভাই”, “আমরা ভুলিনি, ভুলবো না”, “শহীদ জিল্লুর আমাদের প্রেরণা”, “এই রাষ্ট্রের প্রতিটি ইঞ্চিতে তোমার নাম লেখা থাকবে”—এই ধরনের শত শত মন্তব্যে ভরে উঠেছে ফেসবুক।

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন—

সেদিন আমি ছিলাম রামপুরা ব্রিজে। গুলির শব্দ, চিৎকার, আর রক্তের গন্ধ ভুলতে পারি না আজও। জিল্লুর ভাইয়ের মুখটা আজও চোখে ভাসে।

পরিবর্তনের অঙ্গীকার

শুধু স্মরণ নয়, বরং নাফসিনের পোস্টে ছিল দৃঢ় অঙ্গীকারও—শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করার। “তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না”—এই একটি বাক্য যেন গোটা আন্দোলনের চেতনার সারসংক্ষেপ।

এই প্রতিজ্ঞাই হয়তো ‘জুলাই বিপ্লব’কে বইয়ের পাতার বাইরে এনে বাস্তবের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। শহীদ জিল্লুর, তার সহযোদ্ধারা, আর হাজারো আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীর সংগ্রাম আজও মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ের পথে কোনো রক্ত বৃথা যায় না, যদি থেকে যায় এমন কিছু সাহসী হৃদয় যারা বলতে পারে, “দেব না ইনশাআল্লাহ।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“ওপারে ভালো থাকিস ভাই, তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ”: জুলাই বিপ্লবের শহীদ জিল্লুর রহমানকে স্মরণে নাফসিন মেহেনাজ

Update Time : ০৩:০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

WhatsApp Image 2025 07 18 at 22559 PM 2507180828

ওপারে ভালো থাকিস ভাই, তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ”: জুলাই বিপ্লবের শহীদ জিল্লুর রহমানকে স্মরণে নাফসিন মেহেনাজ
জুলাই বিপ্লবের এক বছর: সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় ঝরল অশ্রু অঙ্গীকার

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলন, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে ইতিহাসে পরিচিতি পায়, তার প্রথম বার্ষিকীতে স্মরণ করা হলো শহীদ ছাত্রদের। বিশেষ করে ঢাকা কলেজের মেধাবী ছাত্র জিল্লুর রহমান, যিনি আন্দোলনের এক উত্তপ্ত মুহূর্তে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, তাঁকে ঘিরেই আজ আবারও জেগে উঠেছে প্রতিবাদী আবেগ।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে এসেছে আবেগঘন স্মৃতিচারণা, শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকারের ঝড়। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সেই আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন:

মনে আছে সেই দিনের কথা? ১৮ জুলাই, যখন আমাদের ভাই জিল্লুর শহীদ হল, আমি ব্র্যাকের উপরতলা থেকে দেখছিলাম তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চোখের সামনে সব ভেঙে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটা কথাই বলছিলাম
জালিমের বাচ্চারা আমার ভাইকে মেরে ফেলছে!’”

তিনি আরও লিখেছেন—

ওপারে ভালো থাকিস ভাইতোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না ইনশাআল্লাহ।

এই কয়েকটি বাক্যই যেন সেই দিনের শোক, ক্ষোভ ও প্রতিজ্ঞাকে পুনর্জীবিত করেছে। তার এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ পোস্টটিতে মন্তব্য ও শেয়ার করে তাদের নিজস্ব স্মৃতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শহীদ জিল্লুরের আত্মদান: একটি গণজাগরণের সূচনা

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ, দমনমূলক আইনের প্রতিবাদ ও ছাত্র অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে আসে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমান ফার্মগেট মোড়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তার মৃত্যুই আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল, প্রতিবাদ, অবস্থান ও সংঘর্ষে জড়ায়, যা দ্রুতই রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী এক গণঅভ্যুত্থানে।

সেদিনের সেই বিক্ষোভ ছিল শুধু একটি ছাত্রের মৃত্যুতে শোক নয়; ছিল গোটা একটি প্রজন্মের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অভূতপূর্ব সাহস। ‘জুলাই বিপ্লব’ শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পরিবর্তনের প্রতীক, ছাত্র সমাজের চেতনাবাহী এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সামাজিক মাধ্যমজুড়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

নাফসিন মেহেনাজের পোস্টের মন্তব্য ঘরে দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও সহযোদ্ধাদের চোখ ভেজানো অনুভূতি—
“তোর রক্ত বৃথা যাবে না ভাই”, “আমরা ভুলিনি, ভুলবো না”, “শহীদ জিল্লুর আমাদের প্রেরণা”, “এই রাষ্ট্রের প্রতিটি ইঞ্চিতে তোমার নাম লেখা থাকবে”—এই ধরনের শত শত মন্তব্যে ভরে উঠেছে ফেসবুক।

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন—

সেদিন আমি ছিলাম রামপুরা ব্রিজে। গুলির শব্দ, চিৎকার, আর রক্তের গন্ধ ভুলতে পারি না আজও। জিল্লুর ভাইয়ের মুখটা আজও চোখে ভাসে।

পরিবর্তনের অঙ্গীকার

শুধু স্মরণ নয়, বরং নাফসিনের পোস্টে ছিল দৃঢ় অঙ্গীকারও—শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য রক্ষা করার। “তোদের রক্ত বৃথা যেতে দিইনি, দেব না”—এই একটি বাক্য যেন গোটা আন্দোলনের চেতনার সারসংক্ষেপ।

এই প্রতিজ্ঞাই হয়তো ‘জুলাই বিপ্লব’কে বইয়ের পাতার বাইরে এনে বাস্তবের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে। শহীদ জিল্লুর, তার সহযোদ্ধারা, আর হাজারো আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীর সংগ্রাম আজও মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ের পথে কোনো রক্ত বৃথা যায় না, যদি থেকে যায় এমন কিছু সাহসী হৃদয় যারা বলতে পারে, “দেব না ইনশাআল্লাহ।”