সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুম্বইয়ে শিক্ষিকার যৌন লালসার শিকার ছাত্র

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৮ Time View

168790 Abul 2

168790 Abul 2

মুম্বইয়ের একটি নামী স্কুলের ৪০ বছর বয়সী এক বিবাহিতা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তারই স্কুলের ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই কিশোরকে যৌনভাবে ব্যবহার করেছেন, তাকে মদ পান করিয়েছেন এবং অবসাদবিরোধী ওষুধ সেবনে বাধ্য করেছেন। এই ঘটনায় শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। 

 

ঘটনার সূত্রপাত

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে একটি ড্যান্স গ্রুপের পারফরম্যান্সের সময় শিক্ষিকার সঙ্গে ছাত্রটির পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে শিক্ষিকা তার প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করেন এবং এক মাসের মধ্যে তাকে যৌন সম্পর্কে জড়ান। প্রথমদিকে ছাত্রটি অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও শিক্ষিকা তার এক সহপাঠী মেয়েবন্ধুর মাধ্যমে তাকে চাপ দিতে থাকেন। 

 

মেয়েবন্ধুর ভূমিকা

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষিকার নির্দেশে ছাত্রটির মেয়েবন্ধু তাকে বোঝাতে থাকে যে, “বয়স্ক নারী ও কিশোরদের মধ্যে সম্পর্ক আজকাল খুব স্বাভাবিক ঘটনা।” এই প্ররোচনায় একপর্যায়ে ছাত্রটি শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়। এরপর শিক্ষিকা তাকে নিজের গাড়িতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক নগ্ন করে যৌন নির্যাতন করেন। 

 

বিলাসবহুল হোটেলে যৌনকর্ম ও মানসিক চাপ

প্রাথমিক ঘটনার পর শিক্ষিকা ছাত্রটিকে মুম্বইয়ের বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যেতে শুরু করেন। সেখানে বারবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি তাকে মদ্যপান ও অবসাদবিরোধী ওষুধ সেবন করানো হয়। এতে ছাত্রটির মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগতে থাকে। পরিবার প্রথমে বিষয়টি জানার পরও স্কুল জীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিল, কিন্তু শিক্ষিকা গৃহকর্মীর মাধ্যমে আবার ছাত্রটিকে ফোন করে নতুন করে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা পুলিশে অভিযোগ দাখিল করে। 

 

আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) নিম্নলিখিত ধারায় মামলা দায়ের করেছে: 

– ধারা 376 (ধর্ষণ) 

– ধারা 354 (শালীনতাহানি) 

– POCSO আইন (অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ প্রতিরোধ আইন) 

– ধারা 328 (বিষ বা মাদক প্রয়োগে প্রলোভন) 

 

এছাড়াও, ছাত্রটিকে প্ররোচিত করার অভিযোগে তার মেয়েবন্ধুকেও জড়িত করা হয়েছে। 

 

সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় মুম্বইয়ের শিক্ষা মহল ও শিশু সুরক্ষা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে এমন শোষণ শিশুর মানসিক বিকৃতির কারণ হতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তা প্রকাশ্যে আসে। 

 

পরিবারের বক্তব্য

ছাত্রটির পরিবার জানায়, “আমরা প্রথমে লজ্জায় চুপ ছিলাম, কিন্তু শিক্ষিকা বারবার আমাদের সন্তানকে টার্গেট করায় আমরা আইনের শরণাপন্ন হই।” তারা দাবি করে, স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত না করায় ঘটনা এতদূর গড়িয়েছে। 

এই ঘটনা সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের সীমা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এর কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। আশা করা যায়, তদন্ত দ্রুত শেষ হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, পুলিশ রিপোর্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুম্বইয়ে শিক্ষিকার যৌন লালসার শিকার ছাত্র

Update Time : ০৬:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

168790 Abul 2

মুম্বইয়ের একটি নামী স্কুলের ৪০ বছর বয়সী এক বিবাহিতা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তারই স্কুলের ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই কিশোরকে যৌনভাবে ব্যবহার করেছেন, তাকে মদ পান করিয়েছেন এবং অবসাদবিরোধী ওষুধ সেবনে বাধ্য করেছেন। এই ঘটনায় শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। 

 

ঘটনার সূত্রপাত

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে একটি ড্যান্স গ্রুপের পারফরম্যান্সের সময় শিক্ষিকার সঙ্গে ছাত্রটির পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে শিক্ষিকা তার প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করেন এবং এক মাসের মধ্যে তাকে যৌন সম্পর্কে জড়ান। প্রথমদিকে ছাত্রটি অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও শিক্ষিকা তার এক সহপাঠী মেয়েবন্ধুর মাধ্যমে তাকে চাপ দিতে থাকেন। 

 

মেয়েবন্ধুর ভূমিকা

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষিকার নির্দেশে ছাত্রটির মেয়েবন্ধু তাকে বোঝাতে থাকে যে, “বয়স্ক নারী ও কিশোরদের মধ্যে সম্পর্ক আজকাল খুব স্বাভাবিক ঘটনা।” এই প্ররোচনায় একপর্যায়ে ছাত্রটি শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়। এরপর শিক্ষিকা তাকে নিজের গাড়িতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক নগ্ন করে যৌন নির্যাতন করেন। 

 

বিলাসবহুল হোটেলে যৌনকর্ম ও মানসিক চাপ

প্রাথমিক ঘটনার পর শিক্ষিকা ছাত্রটিকে মুম্বইয়ের বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যেতে শুরু করেন। সেখানে বারবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি তাকে মদ্যপান ও অবসাদবিরোধী ওষুধ সেবন করানো হয়। এতে ছাত্রটির মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সে উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগতে থাকে। পরিবার প্রথমে বিষয়টি জানার পরও স্কুল জীবন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিল, কিন্তু শিক্ষিকা গৃহকর্মীর মাধ্যমে আবার ছাত্রটিকে ফোন করে নতুন করে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা পুলিশে অভিযোগ দাখিল করে। 

 

আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার

পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) নিম্নলিখিত ধারায় মামলা দায়ের করেছে: 

– ধারা 376 (ধর্ষণ) 

– ধারা 354 (শালীনতাহানি) 

– POCSO আইন (অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ প্রতিরোধ আইন) 

– ধারা 328 (বিষ বা মাদক প্রয়োগে প্রলোভন) 

 

এছাড়াও, ছাত্রটিকে প্ররোচিত করার অভিযোগে তার মেয়েবন্ধুকেও জড়িত করা হয়েছে। 

 

সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় মুম্বইয়ের শিক্ষা মহল ও শিশু সুরক্ষা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে এমন শোষণ শিশুর মানসিক বিকৃতির কারণ হতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তা প্রকাশ্যে আসে। 

 

পরিবারের বক্তব্য

ছাত্রটির পরিবার জানায়, “আমরা প্রথমে লজ্জায় চুপ ছিলাম, কিন্তু শিক্ষিকা বারবার আমাদের সন্তানকে টার্গেট করায় আমরা আইনের শরণাপন্ন হই।” তারা দাবি করে, স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত না করায় ঘটনা এতদূর গড়িয়েছে। 

এই ঘটনা সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের সীমা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এর কঠোর শাস্তি প্রয়োজন। আশা করা যায়, তদন্ত দ্রুত শেষ হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, পুলিশ রিপোর্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।