খাগড়াছড়িতে ১৪ বছরের কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের চার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার; দুইজন পলাতক
- Update Time : ১২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
- / ১৭৫ Time View

খাগড়াছড়িতে একটি মর্মান্তিক ধর্ষণ মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের চার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবা ছয়জনের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরমান হোসেন (৩২), সদস্য ইমন হোসেন (২৫) ও এনায়েত হোসেন (৩৫) এবং স্থানীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩২)। এছাড়াও মামলার আরও দুই আসামি হলেন একই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুনির ইসলাম (২৯) ও ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল ইসলাম (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, এ দুজন এখনো পলাতক রয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের সম্পর্কে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার দাবি করেছেন, “এরা আমাদের কোনো নেতা বা কর্মী নন। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চাই।”
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন রথযাত্রার মেলায় অংশ নেওয়ার পর ওই কিশোরী এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাত যাপন করে। গভীর রাতে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর আত্মীয়কে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
আত্মহত্যার চেষ্টা ও মানসিক সংকট
নির্যাতনের শিকার কিশোরীটি প্রথমে লজ্জা ও ভয়ে পরিবারকে কিছু জানায়নি। তবে ঘটনার প্রভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত শনিবার বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে পরিবারকে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, “কিশোরীটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। তাকে জরুরি চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তারি অভিযান
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরোফিন জুয়েল জানিয়েছেন, “মামলা দায়েরের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই পলাতক আসামিকে শিগগিরই আটক করা হবে। আমরা এই মামলায় কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায়বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।














