সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবির দুই শিক্ষককে মারধর: ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার, দুজনের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৪ Time View

WhatsApp Image 2025 07 16 at 120950 AM 2507151828

WhatsApp Image 2025 07 16 at 120950 AM 2507151828

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত শিক্ষক ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আরও দুই সিনিয়র নেতাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং একজন শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা

সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন:

  • ইয়াসিন হোসেন সাইফ – গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ
  • আবু হেনা মুরসালিন – সমাজকর্ম বিভাগ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ
  • ইমরান হাসান ইমান – বাংলা বিভাগ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ

তিনজনই শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। তাদেরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন:

  • মো. মাহমুদুল হাসান – রসায়ন বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ; ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
  • মো. জাহিদুল ইসলাম – দর্শন বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ; ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

সতর্কীকরণ

এছাড়া ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিজুল হাকিম-কে কড়া সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ঘটনার পটভূমি

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে মারাত্মক এক ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদ-কে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

হামলার সময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা .

কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম হামলার হাত থেকে শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদেরও গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ছাড়া একই ঘটনার সময় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ফয়সাল মুরাদ, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস হাসান, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক-এর ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনাকে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা, শিক্ষক লাঞ্ছনা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করবে।

এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের আরেকটি দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে শুধু কলুষিতই করছে না, বরং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংস করছে। তাই প্রয়োজন আইনানুগ কঠোর শাস্তি এবং রাজনীতিমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দিক, এটাই প্রত্যাশা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জবির দুই শিক্ষককে মারধর: ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার, দুজনের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ০৭:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

WhatsApp Image 2025 07 16 at 120950 AM 2507151828

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত শিক্ষক ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আরও দুই সিনিয়র নেতাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং একজন শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা

সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন:

  • ইয়াসিন হোসেন সাইফ – গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ
  • আবু হেনা মুরসালিন – সমাজকর্ম বিভাগ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ
  • ইমরান হাসান ইমান – বাংলা বিভাগ, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ

তিনজনই শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। তাদেরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন:

  • মো. মাহমুদুল হাসান – রসায়ন বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ; ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
  • মো. জাহিদুল ইসলাম – দর্শন বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ; ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

সতর্কীকরণ

এছাড়া ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজিজুল হাকিম-কে কড়া সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ঘটনার পটভূমি

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে মারাত্মক এক ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদ-কে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

হামলার সময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা . কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম হামলার হাত থেকে শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাদেরও গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ছাড়া একই ঘটনার সময় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ফয়সাল মুরাদ, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস হাসান, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক-এর ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনাকে ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা, শিক্ষক লাঞ্ছনা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করবে।

এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের আরেকটি দৃষ্টান্ত। শিক্ষক ও নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে শুধু কলুষিতই করছে না, বরং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধ্বংস করছে। তাই প্রয়োজন আইনানুগ কঠোর শাস্তি এবং রাজনীতিমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপ সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দিক, এটাই প্রত্যাশা।