চুরির পর পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর উপর নৃশংস ধর্ষণ, চকরিয়ায় চাঞ্চল্য
- Update Time : ১২:০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / ১৪০ Time View

চুরির পর কনস্টেবলের স্ত্রীর উপর নৃশংস ধর্ষণ, চকরিয়ায় চাঞ্চল্য
রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে চুরি ও ধর্ষণ, দুই শিশুর সামনে ঘটে বিভীষিকাময় ঘটনা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গভীর রাতে এক পুলিশ কনস্টেবলের অনুপস্থিতে তার স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে ভয়াবহভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ঘরের জানালা দিয়ে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে চুরি করার পাশাপাশি ওই নারীকে রান্নাঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘরের ভেতর তখন ওই নারী ছাড়া তার দুই শিশু সন্তান ছিল। এ সময় পুলিশের কনস্টেবল স্বামী তার কর্মস্থলে ছিলেন।
বিভীষিকাময় রাত
ভুক্তভোগীর স্বামী চকরিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, অজ্ঞাতনামা এক যুবক রান্নাঘরের জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তার হাতে ছিল একটি ধারালো দা এবং একটি টর্চলাইট। ঘরে ঢুকেই সে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার সময় ঘরে থাকা ছোট দুই শিশু ভয় ও আতঙ্কে কেঁদে উঠলে পাশের ভাড়াটিয়ারা শব্দ শুনে ছুটে আসেন। দুর্বৃত্ত তখনই পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ওই নারীর স্বামী রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং স্ত্রীর মুখে ঘটনার বিস্তারিত শুনে থানায় যান।
মামলা ও পুলিশের পদক্ষেপ
পরদিন মঙ্গলবার সকালে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। নারীকে ধর্ষণ, ঘরে চুরি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং গ্রেপ্তারে মাঠে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
সামাজিক উদ্বেগ ও প্রশ্ন
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরাই যদি এমন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—সে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।
স্থানীয়রা দ্রুত দোষীর গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্ত স্থাপন না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নয়, বরং সমাজিক সচেতনতা ও প্রতিবেশীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা খুব জরুরি। ঘরে নিরাপত্তা জোরদার করা, অপরিচিতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও রাতের বেলা সাবধানতা অবলম্বন করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের উচিত এমন ভয়াবহ ঘটনা তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা।













