অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, দোষীদের কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে
- Update Time : ০৫:৫৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / ২১৩ Time View

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সহিংসতা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং তা গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “জাতীয় নাগরিক পার্টির তরুণ সদস্যরা তাদের এক বছরের বিপ্লবী আন্দোলনের বার্ষিকী উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের যে সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন, সেটিকে নৃশংসভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এ হামলায় দলটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন; পুলিশ ও ইউএনওর গাড়িতে পর্যন্ত হামলা হয়েছে। এ ছাড়া বহু মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং দলটির নেতাকর্মীদের এ হামলার পেছনে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এমন জঘন্য হামলা বাংলাদেশে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা দৃঢ়ভাবে বলছি—দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এটি কেবল রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নয়, বরং একটি সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।”
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা জানাই, যারা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। একইসঙ্গে আমরা শ্রদ্ধা জানাই সেই সাহসী তরুণ-তরুণীদের প্রতি, যারা এমন ভয়াবহ সহিংসতার মুখেও তাদের প্রতিবাদী অবস্থান বজায় রেখেছেন।”
অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করে জানায়, “আমরা এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কোনো স্থান নেই। যারা নাগরিকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার হরণ করে, তারাই প্রকৃত দেশবিরোধী শক্তি। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী দিনে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ, সংগঠিত হওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। এসব অধিকার নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাবে, এবং যেকোনো ধরনের দমনমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।”
এঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী এবং ছাত্রসমাজ। গণতান্ত্রিক চেতনা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।













