সন্তান জন্মের মাত্র ১৭ ঘণ্টা আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর! বিরল অভিজ্ঞতায় অস্ট্রেলীয় তরুণী শার্লট
- Update Time : ০৬:১০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / ১৮৮ Time View

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ২০ বছর বয়সী তরুণী শার্লট সামার্স এমন এক বিরল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’ নামে পরিচিত। এ অবস্থায় একজন নারী বুঝতেই পারেন না যে তিনি গর্ভবতী। শার্লট অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পেয়েছেন সন্তান প্রসবের মাত্র ১৭ ঘণ্টা আগে!
কীভাবে জানলেন?
২০২৫ সালের জুন মাসে হঠাৎ এক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান শার্লট। তার ধারণা ছিল, তিনি ‘গ্লুটেন সেনসিটিভিটি’তে ভুগছেন। চিকিৎসক রুটিন কিছু প্রশ্ন করার পর একটি গর্ভধারণ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরীক্ষার ফল আসতেই পুরো চিত্র পাল্টে যায়—শার্লট তখন ৩৮ সপ্তাহ ৪ দিন গর্ভবতী! অর্থাৎ, সন্তান জন্মের আর খুব বেশি সময় বাকি নেই।
প্রচলিত কোনো লক্ষণ না থাকায় বিভ্রান্তি
শার্লট জানান, তার কোনো গর্ভকালীন লক্ষণ তেমন অনুভূত হয়নি। ওজন কিছুটা বেড়েছিল, জিনসের সাইজও দুই ধাপ বড় হয়েছিল ঠিকই, তবে তিনি ভেবেছিলেন সেটা মানসিক চাপ বা ভালো সম্পর্কের কারণে শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মেনে চলছিলেন এবং তার মাসিকও নিয়মিত ছিল। এসব কারণেই গর্ভাবস্থা নিয়ে কোনো সন্দেহ তার মনে জাগেনি।
তার ভাষায়, “আমি তখনো সাইজ ৮-এর পোশাক পরতাম। পেট একটু ফোলা মনে হলেও, আমি কখনো ভাবিনি যে সেটা গর্ভাবস্থার কারণ হতে পারে। মনেই হয়নি আমি একজন সন্তান গর্ভে ধারণ করেছি!”
দ্রুত হাসপাতালে যাত্রা এবং সন্তান জন্ম
গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে শার্লটকে আল্ট্রাসাউন্ডে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত হয়, সন্তান জন্মদানের সময় প্রায় এসে গেছে। সেদিন রাতেই হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুর চারপাশে অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড বা তরল একদমই ছিল না, যা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নির্দেশ করে।
রাতেই শার্লটের পানি ভেঙে যায় এবং মাত্র দুই
তিনি বলেন, “আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একজন মা হিসেবে কোনো প্রস্তুতিই ছিল না আমার। ১৭ ঘণ্টা ২১ মিনিট আগেও আমি জানতাম না যে আমি মা হতে চলেছি!”
কী এই ‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’?
‘ক্রিপটিক প্রেগন্যান্সি’ হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে গর্ভবতী নারী তার গর্ভধারণ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকেন। এর লক্ষণগুলো সাধারণত অনুপস্থিত বা এতই অস্পষ্ট থাকে যে তা বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় মাসিক চলতে থাকে, ওজন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হয়, পেট বড় হয় না, এমনকি শিশুর নড়াচড়াও অনুভব হয় না। ফলে পরিবার কিংবা স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরাও তা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।
গবেষণা কী বলে?
এই ধরণের গর্ভাবস্থার ঘটনা খুবই বিরল হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান এটিকে একেবারে অসম্ভব মানে না। ১২ মাসব্যাপী বার্লিনে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৪৭৫টি গর্ভাবস্থার মধ্যে একটি ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গোপন থাকে। এমনকি প্রতি ২,৫০০টি গর্ভাবস্থার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ গর্ভকালীন সময়জুড়ে গোপন থাকে, যা শার্লটের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।
সামাজিক ও মানসিক দিক
এই ধরণের পরিস্থিতি মা এবং পরিবারের জন্য চরম বিস্ময় ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক সময় মায়েরা মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় ডিপ্রেশন, শক বা উদ্বিগ্নতায় ভোগেন। তবে শার্লট জানিয়েছেন, তিনি তার সন্তানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে নতুন জীবনে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “সবকিছু খুব হঠাৎ ঘটলেও, আমি এখন আমার ছেলেকে নিয়েই জীবন গড়তে চাই। তার আগমন আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।”
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এ ঘটনাকে অলৌকিক বললেও, চিকিৎসকেরা এটি বিজ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন।
শার্লট সামার্সের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শরীরের প্রতিটি পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একইসাথে এটি প্রমাণ করে, প্রতিটি গর্ভাবস্থাই অনন্য, এবং নারীদেহের রহস্যময়তা কখনো কখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানকেও অবাক করে দিতে পারে।













