সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / ২০৭ Time View

1752557966 81e64c9513e25a522a17e27b850470c5

1752557966 81e64c9513e25a522a17e27b850470c5

 

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসের
শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব, বদলি নীতিতে পরিবর্তনের নির্দেশ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে ৩২ হাজার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৪ জুলাই সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকের শুরুতেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে বিশ্লেষণ চেয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি জানতে চান, কোন কোন স্কুল ভালো করছে এবং কোনগুলো পিছিয়ে রয়েছে।

স্কুল মূল্যায়ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ

উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হলেও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান এখনো অর্জিত হয়নি। তিনি বলেন,

“আমরা এখন স্কুলগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে র‍্যাংকিং করছি। পিছিয়ে থাকা স্কুলগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।”

এই মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—প্রধান শিক্ষকের দক্ষতা সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেতৃত্ব শিক্ষার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, যা শিক্ষার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ নীতিমালা

এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন

করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন,

“নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একাধিক ক্যাটাগরিতে শ্রেণিবিন্যাস করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করছেন এমন অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য ও উদ্যমী তরুণদের জন্যও সুযোগ রাখতে হবে।”

তাছাড়া তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেন।

বদলি নীতিমালায় পরিবর্তনের নির্দেশ

বৈঠকে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন,

“বর্তমান প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা বদলির জন্য বিভিন্ন সুপারিশ, তদবির করে থাকেন। এটি বন্ধ করতে হবে। বদলির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে, যেখানে নির্ধারিত নিয়মেই একজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন।”

নারী বান্ধব অবকাঠামো ইন্টারনেট সুবিধা

নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য বিদ্যালয়কে আরও নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে স্কুল নির্মাণ পরিকল্পনায় নারী স্থপতির অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন,

“বিদ্যালয় নির্মাণ পরিকল্পনায় নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে হবে। যেন স্কুলের অবকাঠামো নারীবান্ধব হয় এবং মেয়েদের আলাদা করে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়।”

প্রযুক্তি সুবিধার প্রসার

ড. ইউনূস দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সংযোগ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,

“ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

 

প্রধান উপদেষ্টার এ নির্দেশনা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ, সুশৃঙ্খল বদলি নীতিমালা, নারী বান্ধব পরিবেশ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার—এই চারটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা গেলে শিক্ষার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। এখন সময়মতো ও কার্যকরভাবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাই হবে প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

Update Time : ১২:০০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

1752557966 81e64c9513e25a522a17e27b850470c5

 

প্রাথমিকের ৩২ হাজার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসের
শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব, বদলি নীতিতে পরিবর্তনের নির্দেশ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে ৩২ হাজার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৪ জুলাই সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকের শুরুতেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে বিশ্লেষণ চেয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি জানতে চান, কোন কোন স্কুল ভালো করছে এবং কোনগুলো পিছিয়ে রয়েছে।

স্কুল মূল্যায়ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ

উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় জানান, প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হলেও কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান এখনো অর্জিত হয়নি। তিনি বলেন,

“আমরা এখন স্কুলগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে র‍্যাংকিং করছি। পিছিয়ে থাকা স্কুলগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।”

এই মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—প্রধান শিক্ষকের দক্ষতা সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেতৃত্ব শিক্ষার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, যা শিক্ষার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ নীতিমালা

এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে

সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন,

“নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একাধিক ক্যাটাগরিতে শ্রেণিবিন্যাস করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করছেন এমন অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি যোগ্য ও উদ্যমী তরুণদের জন্যও সুযোগ রাখতে হবে।”

তাছাড়া তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেন।

বদলি নীতিমালায় পরিবর্তনের নির্দেশ

বৈঠকে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন,

“বর্তমান প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা বদলির জন্য বিভিন্ন সুপারিশ, তদবির করে থাকেন। এটি বন্ধ করতে হবে। বদলির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে, যেখানে নির্ধারিত নিয়মেই একজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন।”

নারী বান্ধব অবকাঠামো ইন্টারনেট সুবিধা

নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য বিদ্যালয়কে আরও নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে স্কুল নির্মাণ পরিকল্পনায় নারী স্থপতির অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন,

“বিদ্যালয় নির্মাণ পরিকল্পনায় নারীদের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে হবে। যেন স্কুলের অবকাঠামো নারীবান্ধব হয় এবং মেয়েদের আলাদা করে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়।”

প্রযুক্তি সুবিধার প্রসার

ড. ইউনূস দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সংযোগ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষে রূপান্তরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,

“ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

 

প্রধান উপদেষ্টার এ নির্দেশনা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ, সুশৃঙ্খল বদলি নীতিমালা, নারী বান্ধব পরিবেশ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার—এই চারটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা গেলে শিক্ষার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। এখন সময়মতো ও কার্যকরভাবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাই হবে প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।