কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হলো ৯৬ বাংলাদেশিসহ ১৩১ জন বিদেশিকে
- Update Time : ০৬:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / ১৪৯ Time View

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA) থেকে ৯৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ১৩১ জন বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দি সান ডেইলি-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এ মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (BCPA) এই অভিযান পরিচালনা করে। তারা জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য, সুনির্দিষ্ট আবাসনের প্রমাণ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক কাগজপত্র প্রদানে ব্যর্থ ছিলেন। বিশেষ করে, অনেকেই পর্যটক হিসেবে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও, তাদের পাসপোর্টে মালয়েশিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভিসা তথ্য বা নির্ভরযোগ্য থাকার ব্যবস্থা ছিল না।
BCPA-এর বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেছিলেন যে তারা মালয়েশিয়ায় এক মাস অবস্থান করবেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে ছিল মাত্র ৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ১৩ হাজার টাকা), যা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দেয় এবং অনেককে অবৈধভাবে কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া প্রবেশের চেষ্টাকারী বলে মনে করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযানে ধরা পড়াদের মধ্যে ৯৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি পুরুষ, ৩০ জন পাকিস্তানি এবং ৫ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক। অভিযানটি ১১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এ সময় KLIA-এর আন্তর্জাতিক আগমন হল থেকে শুরু করে সি-ওয়ান থেকে সি-৩৭ পর্যন্ত ডিপার্চার গেটের বিভিন্ন পয়েন্টে ৩০০-এরও বেশি বিদেশিকে স্ক্রিনিং করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর আবাসন সংক্রান্ত বুকিং সন্দেহজনক ছিল কিংবা যারা মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন দপ্তরে রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের কাগজপত্র বা আর্থিক সামর্থ্য যথাযথ প্রমাণিত হয়নি, তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে থাকা এবং পর্যাপ্ত ডকুমেন্টেশনের অভাবে অনেকেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে এবং মানবপাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা পর্যটক হিসেবে দেশটিতে আসতে চান, তাদের যথাযথ কাগজপত্র, পর্যাপ্ত অর্থ এবং বিশ্বাসযোগ্য ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকতে হবে, তা না হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাগরিকদের সহায়তা প্রদান করে থাকে।
এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, বিদেশে ভ্রমণ বা কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও শর্তাবলি সম্পর্কে সচেতন থাকা কতটা জরুরি। তা না হলে বিদেশের মাটিতে অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়ে আত্মসম্মান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।














