সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় তৃষ্ণার্ত শিশুদের হত্যায় ফের রক্তাক্ত হলো মানবতা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ১২৮ Time View

prothomalo bangla 2025 07 13 ajzb47wo gaza 23

prothomalo bangla 2025 07 13 ajzb47wo gaza 23

গাজা উপত্যকার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে রোববার (১৩ জুলাই) সকালটি শুরু হয়েছিল পানির খোঁজে ছোটাছুটির মাধ্যমে। জীবন বাঁচাতে শিশুরা পা বাড়িয়েছিল একটি পানি সরবরাহকেন্দ্রের দিকে। কিন্তু ইসরায়েলি বিমান ও কামানের গর্জনে সেই আশা মুহূর্তেই নিভে যায়। আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এদিন পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ছয়জনই ছিল শিশু। আহত হয়েছে আরও ১৬ জন।

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে পানি সরবরাহকেন্দ্রে হামলা হয়েছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। সেই অশুদ্ধ পানিও সংগ্রহ করতে গিয়ে শিশুদের প্রাণ দিতে হলো, যা ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের নির্মম চিত্র তুলে ধরে।

বারবার হামলার টার্গেট পানি সংগ্রাহক

এই হামলাটি প্রথম নয়। গত কয়েক মাসে অন্তত ১০ বার পানি সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, রোববার শুধু পানি সংগ্রহকারী ১০ জনই নয়, সর্বমোট ৫৯ জন নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় চালানো আক্রমণে। আগের দিন শনিবার নিহত হয়েছিল আরও অন্তত ১১০ জন।

শনিবারের নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩৪ জন সাধারণ মানুষ, যারা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় তারা সামান্য কিছু খাবারের আশায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখানেও নেমে আসে বোমার বৃষ্টি।

অনাহারে মৃত্যুবরণ করছে শিশুরা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজায় ক্রমাগত বেড়েছে খাদ্য ও পানির সংকট। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে অপুষ্টি এবং খাদ্যাভাবে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গাজার জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬৭ শিশুর।

অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংস্থা জিএইচএফ-এর মাধ্যমে কিছু খাদ্য প্রবেশ করলেও, তার প্রক্রিয়া ও মান নিয়ে রয়েছে তীব্র সমালোচনা। এই সংস্থা থেকে একটি পরিবারে একমাত্র ব্যক্তিকে যে খাদ্য পার্সেল দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত তো নয়ই, বরং বিতরণের সময় প্রাণ হারানোর ঝুঁকি নিয়েই সেখানে যেতে হয় মানুষকে।

ইসরায়েলের দোষ চাপানোর কৌশল

গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ফলাফল প্রায় শূন্য। কাতারের রাজধানী দোহায় ৬ জুলাই থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল। দু’পক্ষই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ প্রকাশ করলেও, আলোচনা ভেস্তে যায়।

এএফপি সূত্রে জানা গেছে, হামাস গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও, ইসরায়েল আলোচনা চলাকালেই গাজায় সামরিক মানচিত্র উপস্থাপন করে, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় নতুন করে আরও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির। ফলে হামাস এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

যুদ্ধবিরতির পথ রুদ্ধ

এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়—বিশেষ করে দোহায় আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফর পর্যন্ত। অথচ আলোচনার ব্যর্থতার দায় ইসরায়েল চাপিয়ে দিচ্ছে হামাসের ওপর। তারা বলছে, হামাস কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় এবং আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত; কিন্তু হামাস একগুঁয়ে আচরণ করছে এবং যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদিও বাস্তবতা হলো, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলাকালেই গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে চলেছে ইসরায়েল, যা প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৮ হাজার

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে গাজায় অন্তত ৫৮ হাজার ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি। ধ্বংস হয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, বাসভবন, বাজারসহ যাবতীয় বেসামরিক অবকাঠামো। অবরোধের কারণে মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে ইসরায়েল যেন একটি গোটা জনগোষ্ঠীকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দায়মুক্তি

জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার গাজায় চালানো এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ইসরায়েল এর দায় এড়াতে হামাসকে দোষারোপের পথই বেছে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীরব সমর্থনও ইসরায়েলের এই অমানবিকতা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম উৎসাহদাতা।

পানির জন্য যেসব শিশুরা জীবন হাতে নিয়ে শরণার্থী শিবিরের রাস্তায় বের হয়েছিল, তাদের রক্তে আবারও প্রশ্ন জেগে উঠেছে—কোথায় মানবতা? কোথায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা? আর কত প্রাণ ঝরলে বিশ্ব জাগবে? শিশুদের প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের মৌনতা শুধু লজ্জার নয়, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। গাজায় চলমান এই মানবিক বিপর্যয়ের অবসানে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গাজায় তৃষ্ণার্ত শিশুদের হত্যায় ফের রক্তাক্ত হলো মানবতা

Update Time : ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

prothomalo bangla 2025 07 13 ajzb47wo gaza 23

গাজা উপত্যকার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে রোববার (১৩ জুলাই) সকালটি শুরু হয়েছিল পানির খোঁজে ছোটাছুটির মাধ্যমে। জীবন বাঁচাতে শিশুরা পা বাড়িয়েছিল একটি পানি সরবরাহকেন্দ্রের দিকে। কিন্তু ইসরায়েলি বিমান ও কামানের গর্জনে সেই আশা মুহূর্তেই নিভে যায়। আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এদিন পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ছয়জনই ছিল শিশু। আহত হয়েছে আরও ১৬ জন।

নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে পানি সরবরাহকেন্দ্রে হামলা হয়েছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। সেই অশুদ্ধ পানিও সংগ্রহ করতে গিয়ে শিশুদের প্রাণ দিতে হলো, যা ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের নির্মম চিত্র তুলে ধরে।

বারবার হামলার টার্গেট পানি সংগ্রাহক

এই হামলাটি প্রথম নয়। গত কয়েক মাসে অন্তত ১০ বার পানি সংগ্রহের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, রোববার শুধু পানি সংগ্রহকারী ১০ জনই নয়, সর্বমোট ৫৯ জন নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় চালানো আক্রমণে। আগের দিন শনিবার নিহত হয়েছিল আরও অন্তত ১১০ জন।

শনিবারের নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৩৪ জন সাধারণ মানুষ, যারা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় তারা সামান্য কিছু খাবারের আশায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখানেও নেমে আসে বোমার বৃষ্টি।

অনাহারে মৃত্যুবরণ করছে শিশুরা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজায় ক্রমাগত বেড়েছে খাদ্য ও পানির সংকট। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে অপুষ্টি এবং খাদ্যাভাবে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গাজার জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬৭ শিশুর।

অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংস্থা জিএইচএফ-এর মাধ্যমে কিছু খাদ্য প্রবেশ করলেও, তার প্রক্রিয়া ও মান নিয়ে রয়েছে তীব্র সমালোচনা। এই সংস্থা থেকে একটি পরিবারে একমাত্র ব্যক্তিকে যে খাদ্য পার্সেল দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত তো নয়ই, বরং বিতরণের সময় প্রাণ হারানোর ঝুঁকি নিয়েই সেখানে যেতে হয় মানুষকে।

ইসরায়েলের দোষ চাপানোর কৌশল

গাজায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ফলাফল প্রায় শূন্য। কাতারের রাজধানী দোহায় ৬ জুলাই থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল। দু’পক্ষই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কিছুটা আশাবাদ প্রকাশ করলেও, আলোচনা ভেস্তে যায়।

এএফপি সূত্রে জানা গেছে, হামাস গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও, ইসরায়েল আলোচনা চলাকালেই গাজায় সামরিক মানচিত্র উপস্থাপন করে, যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় নতুন করে আরও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির। ফলে হামাস এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

যুদ্ধবিরতির পথ রুদ্ধ

এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়—বিশেষ করে দোহায় আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফর পর্যন্ত। অথচ আলোচনার ব্যর্থতার দায় ইসরায়েল চাপিয়ে দিচ্ছে হামাসের ওপর। তারা বলছে, হামাস কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় এবং আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত; কিন্তু হামাস একগুঁয়ে আচরণ করছে এবং যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদিও বাস্তবতা হলো, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলাকালেই গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে চলেছে ইসরায়েল, যা প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৮ হাজার

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে গাজায় অন্তত ৫৮ হাজার ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি। ধ্বংস হয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, বাসভবন, বাজারসহ যাবতীয় বেসামরিক অবকাঠামো। অবরোধের কারণে মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে ইসরায়েল যেন একটি গোটা জনগোষ্ঠীকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দায়মুক্তি

জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার গাজায় চালানো এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ইসরায়েল এর দায় এড়াতে হামাসকে দোষারোপের পথই বেছে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীরব সমর্থনও ইসরায়েলের এই অমানবিকতা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম উৎসাহদাতা।

পানির জন্য যেসব শিশুরা জীবন হাতে নিয়ে শরণার্থী শিবিরের রাস্তায় বের হয়েছিল, তাদের রক্তে আবারও প্রশ্ন জেগে উঠেছে—কোথায় মানবতা? কোথায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা? আর কত প্রাণ ঝরলে বিশ্ব জাগবে? শিশুদের প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের মৌনতা শুধু লজ্জার নয়, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। গাজায় চলমান এই মানবিক বিপর্যয়ের অবসানে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।