সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে গুপ্তচরদের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান পাস করল সংসদ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯৭ Time View

34dca486 953b 495e aa53 952eb512 20250714165326

34dca486 953b 495e aa53 952eb512 20250714165326

শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোরতম শাস্তির বিধান রেখে একটি সংশোধিত আইন পাস করেছে ইরানের সংসদ। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে এ সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পায়, যার মধ্য দিয়ে ইরানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হলো।

সংশোধিত আইনের মূল ধারাগুলো

নতুন আইন অনুযায়ী, যদি কেউ প্রমাণিতভাবে শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর হয়ে গোয়েন্দা কার্যকলাপ, তথ্য পাচার কিংবা অপারেশনাল সহায়তায় জড়িত থাকে, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। সেইসঙ্গে, অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ‘শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী’ নির্ধারণের ক্ষমতা রাখবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ভবিষ্যতে এই তালিকায় অন্য রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী যুক্ত করার এখতিয়ার থাকবে কাউন্সিলের হাতে। একইসঙ্গে, মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্স-কে শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোও অপরাধ

নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, যারা বিদেশি সংস্থা বা শত্রু পক্ষের কাছে তথ্য, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় অথবা সমাজে বিভাজন তৈরি করে—তাদেরও কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। এই অপরাধে কারাদণ্ড, সরকারি চাকরি জনসেবার সুযোগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করার বিধান রাখা হয়েছে।

আপিলের সুযোগ সীমিত

চূড়ান্তভাবে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। আর মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে হবে। এর মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কঠোর করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট: ইসরায়েলি হামলা গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ

এই আইনের প্রস্তাব এমন এক সময় পাস হলো, যখন সম্প্রতি ইরানে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির

ভূখণ্ডে বহিরাগত গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে, সামরিক স্থাপনাসমূহে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গতিবিধি ফাঁসের ঘটনা দেশটির গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে।

সমালোচনাও উঠেছে

যদিও বিলটি সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাস হয়েছে, তবুও ইরানের অভ্যন্তরেই বেশ কয়েকজন আইনজীবী মানবাধিকার কর্মী এর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই আইন বিরোধী মত দমন এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূতও ইরানে চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

ইরান সরকার এই আইনকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অপরিহার্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে আরও বেশি রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে কতটা কার্যকরভাবে প্রকৃত গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় কতটা ভারসাম্য রাখা যায়—তা সময়ই বলে দেবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে গুপ্তচরদের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান পাস করল সংসদ

Update Time : ০৬:০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

34dca486 953b 495e aa53 952eb512 20250714165326

শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোরতম শাস্তির বিধান রেখে একটি সংশোধিত আইন পাস করেছে ইরানের সংসদ। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে এ সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পায়, যার মধ্য দিয়ে ইরানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হলো।

সংশোধিত আইনের মূল ধারাগুলো

নতুন আইন অনুযায়ী, যদি কেউ প্রমাণিতভাবে শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর হয়ে গোয়েন্দা কার্যকলাপ, তথ্য পাচার কিংবা অপারেশনাল সহায়তায় জড়িত থাকে, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। সেইসঙ্গে, অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ‘শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী’ নির্ধারণের ক্ষমতা রাখবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ভবিষ্যতে এই তালিকায় অন্য রাষ্ট্র বা গোষ্ঠী যুক্ত করার এখতিয়ার থাকবে কাউন্সিলের হাতে। একইসঙ্গে, মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্স-কে শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোও অপরাধ

নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, যারা বিদেশি সংস্থা বা শত্রু পক্ষের কাছে তথ্য, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় অথবা সমাজে বিভাজন তৈরি করে—তাদেরও কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। এই অপরাধে কারাদণ্ড, সরকারি চাকরি জনসেবার সুযোগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করার বিধান রাখা হয়েছে।

আপিলের সুযোগ সীমিত

চূড়ান্তভাবে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। আর মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে হবে। এর মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কঠোর করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট: ইসরায়েলি হামলা গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ

এই আইনের প্রস্তাব এমন এক সময় পাস হলো, যখন সম্প্রতি ইরানে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির

ভূখণ্ডে বহিরাগত গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে, সামরিক স্থাপনাসমূহে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গতিবিধি ফাঁসের ঘটনা দেশটির গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে।

সমালোচনাও উঠেছে

যদিও বিলটি সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাস হয়েছে, তবুও ইরানের অভ্যন্তরেই বেশ কয়েকজন আইনজীবী মানবাধিকার কর্মী এর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই আইন বিরোধী মত দমন এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূতও ইরানে চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

ইরান সরকার এই আইনকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অপরিহার্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে আরও বেশি রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে কতটা কার্যকরভাবে প্রকৃত গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় কতটা ভারসাম্য রাখা যায়—তা সময়ই বলে দেবে।