সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজা মওকুফ করে ২৯ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি, পরিচয় প্রকাশ হয়নি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / ২২০ Time View

ea536b0c8db5fe0b55fed41ffafed642 68735c7b518f8

ea536b0c8db5fe0b55fed41ffafed642 68735c7b518f8

সাজা মওকুফের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২৯ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। রবিবার (১৩ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, “কারাগারে আটক এমন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি, যাদের কারাভোগের মেয়াদ রেয়াতসহ ২০ বছর অতিক্রম করেছে, তাদের মধ্যে আরও ২৯ জনকে সদাশয় সরকার কারা বিধি ৫৬৯ অনুযায়ী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুসারে অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।”

তবে এ ২৯ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির নাম, পরিচয় ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম নিচ্ছে, বিশেষ করে অপরাধ ও বিচারসংক্রান্ত স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে।

আইন অনুযায়ী, কারা বিধির ৫৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বরের পূর্বে বা পরে যেসব বন্দিকে সশ্রম বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের সাজা রেয়াতসহ যথাক্রমে ১৪ বছর বা ২০ বছর পার হলে, এবং মুক্তির সম্ভাব্য তারিখের ২-৩ মাস আগে সংশ্লিষ্ট কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের কাছে সাজা মওকুফের আবেদন জানানো যায়।

প্রসঙ্গত, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ মানে হচ্ছে ৩০ বছরের কারাভোগ, যদিও সাজা মওকুফ বা রেয়াতের মাধ্যমে বন্দি অনেক আগেই মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পান। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১০৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্তে সরকার যে সদাশয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসনীয় হলেও পরিচয় গোপন রাখা হলে ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনস্বার্থে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি, যাতে নাগরিকদের আস্থা বজায় থাকে এবং অপরাধ ও শাস্তির ভারসাম্য রক্ষা হয়।

অন্যদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বলা হচ্ছে, সাজাভোগ শেষে বন্দিদের পুনর্বাসন এবং সমাজে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা রক্ষায় মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তত মৌলিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

 

Please Share This Post in Your Social Media

One thought on “সাজা মওকুফ করে ২৯ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি, পরিচয় প্রকাশ হয়নি

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাজা মওকুফ করে ২৯ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি, পরিচয় প্রকাশ হয়নি

Update Time : ০২:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

ea536b0c8db5fe0b55fed41ffafed642 68735c7b518f8

সাজা মওকুফের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২৯ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। রবিবার (১৩ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, “কারাগারে আটক এমন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি, যাদের কারাভোগের মেয়াদ রেয়াতসহ ২০ বছর অতিক্রম করেছে, তাদের মধ্যে আরও ২৯ জনকে সদাশয় সরকার কারা বিধি ৫৬৯ অনুযায়ী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা অনুসারে অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।”

তবে এ ২৯ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির নাম, পরিচয় ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম নিচ্ছে, বিশেষ করে অপরাধ ও বিচারসংক্রান্ত স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে।

আইন অনুযায়ী, কারা বিধির ৫৬৯ ধারায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বরের পূর্বে বা পরে যেসব বন্দিকে সশ্রম বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের সাজা রেয়াতসহ যথাক্রমে ১৪ বছর বা ২০ বছর পার হলে, এবং মুক্তির সম্ভাব্য তারিখের ২-৩ মাস আগে সংশ্লিষ্ট কারা মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে সরকারের কাছে সাজা মওকুফের আবেদন জানানো যায়।

প্রসঙ্গত, দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ মানে হচ্ছে ৩০ বছরের কারাভোগ, যদিও সাজা মওকুফ বা রেয়াতের মাধ্যমে বন্দি অনেক আগেই মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পান। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১০৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্তে সরকার যে সদাশয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসনীয় হলেও পরিচয় গোপন রাখা হলে ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনস্বার্থে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি, যাতে নাগরিকদের আস্থা বজায় থাকে এবং অপরাধ ও শাস্তির ভারসাম্য রক্ষা হয়।

অন্যদিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে বলা হচ্ছে, সাজাভোগ শেষে বন্দিদের পুনর্বাসন এবং সমাজে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা রক্ষায় মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তত মৌলিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।