সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির মেয়াদ আরও ২ মাস বাড়ল: কী থাকছে এই ক্ষমতার আওতায়
- Update Time : ০২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
- / ২২৯ Time View

সরকার সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগের মেয়াদ আরও দুই মাস তথা ৬০ দিন বাড়িয়েছে। রোববার, ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন মেয়াদ ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী দুই মাস কার্যকর থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন এবং তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের—যাদের মধ্যে কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিযুক্ত অফিসাররাও অন্তর্ভুক্ত—তাদেরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থানে তারা আইনানুগভাবে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
এই ক্ষমতার আওতায় থাকা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী অপরাধ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও বিচার করতে পারবেন। প্রযোজ্য ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ধারা ৬৪ (সরকারি কর্মচারীর সহায়তা চাওয়া), ৬৫ (বাধাদান প্রতিরোধ), ৮৩-৮৪ (অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত), ৮৬ (স্বরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অপরাধ), ৯৫(২) (অবৈধ বস্তু বাজেয়াপ্ত), ১০০ (তল্লাশি ও জব্দ), ১০৫ (আপৎকালীন প্রতিরোধ), ১০৭-১১০ (শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা), ১২৬-১৩০ (দাঙ্গা-বিদ্রোহ মোকাবিলা), ১৩৩ (জনস্বার্থে নির্দেশনা), ও ১৪২ (ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অমান্যজনিত ব্যবস্থা)।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের এই বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। তখন থেকেই প্রতি দুই মাস অন্তর নিয়মিতভাবে এ মেয়াদ নবায়ন করে আসছে সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এটি যেন গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার বিরোধী না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিচ্ছেন অনেকে।
এই ক্ষমতার ব্যবহার মূলত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবিলা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব, কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তবে নিয়মিত সময়েও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে তা নিয়ে সমাজে বিতর্ক দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।













