প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে লায়লার মামলা খারিজ: সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে ধারার অনুপস্থিতি উল্লেখ আদালতের
- Update Time : ০৫:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
- / ১৫৯ Time View

অনলাইনে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে টিকটক তারকা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের কaরা মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। রোববার (১৩ জুলাই) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নূরে আলম মামলার আবেদন খারিজের আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী জুয়েল মিয়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে তার পরিবর্তে নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই অধ্যাদেশে যেসব ধারা রয়েছে, তার মধ্যে লায়লার মামলার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কোনো ধারা না থাকায় আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেননি।’’
জানা গেছে, গত ১৫ মে লায়লা নামের এক নারী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন। আদালত তখন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আজকের দিনটি আদেশের জন্য নির্ধারণ করেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ:
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ মে দুপুরে প্রিন্স মামুন একজন দারোয়ানের মাধ্যমে মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য দিয়ে লায়লার বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি পূর্বে দায়ের করা ধর্ষণ মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য লায়লার উপর চাপ সৃষ্টি করেন। ঘটনার সময় লায়লা ঘুমিয়ে ছিলেন। মামুনের আকস্মিক উপস্থিতিতে লায়লা ভীত ও বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং তাকে দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এসময় তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেহেতু মামলা বিচারাধীন, বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত—তাই তিনি এতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
তবে এর পরপরই প্রিন্স মামুন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একের পর এক চারটি লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করেন, যেগুলো দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে করা হয়। ভিডিওগুলোতে তিনি লায়লার শোবার ঘর, বাথরুম, ড্রয়িংরুমসহ ঘরের নানা অংশের দৃশ্য ধারণ করে সরাসরি প্রচার করেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওগুলোতে লায়লাকে গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায়, শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখানো হয় এবং মামুন বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও ভাষা ব্যবহার করেন, গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করেন। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিটি ভিডিওর ভিউ এক মিলিয়নেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, এসব লাইভ ভিডিও ও পরবর্তী সময় ফেসবুকে খণ্ড খণ্ডভাবে আপলোডকৃত ভিডিওগুলোর মাধ্যমে প্রিন্স মামুন লায়লার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং সমাজে তার মানহানি ঘটিয়েছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, মামুন ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও অপমানজনক তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে লায়লার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
তবে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় এবং ২০২৪ সালের প্রবর্তিত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে বাদীর অভিযোগের উপযোগী কোনো ধারা অনুপস্থিত থাকায় মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া:
এই মামলার আবেদন খারিজ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে লায়লার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অনলাইনে এমন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় কীভাবে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন অভিযুক্তকে দায়মুক্তি দিতে পারে।
এই ঘটনায় সাইবার অপরাধ এবং নারীর ব্যক্তিগত গোপনতা রক্ষায় বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়েও নানান আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আইনকে আরও স্পষ্ট ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক ঘটনার বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
আপনি চাইলে আমি এ ঘটনার আলোকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা নারী অধিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আর্টিকেলও প্রস্তুত করে দিতে পারি।














