সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেন যুবদল নেতা ফাহিম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬০ Time View

c259f31c9cb4d30a5247c3789df48cbf 687275634a3cd

c259f31c9cb4d30a5247c3789df48cbf 687275634a3cd

দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যাত্রাবাড়ি থানার সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান ফাহিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের যেকোনো অপকর্ম বা বেআইনি কার্যকলাপের দায়ভার দল নেবে না। যুবদলের কোনো নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একইসঙ্গে যুবদলের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

গাড়ি ভাঙচুর চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর অভিযোগ

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসে মুশফিকুর রহমান ফাহিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, শরীয়তপুর থেকে পরিচালিত সুপার সার্ভিস পরিবহনের বাসগুলো যাত্রাবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে ঢুকতে গেলে তাদের কাছ থেকে এককালীন ৫ কোটি টাকা অথবা মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ফাহিম। চাঁদা না দিলে গাড়িগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়, চালক ও শ্রমিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং স্ট্যান্ড এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় যাত্রাবাড়ি শরীয়তপুর বাস স্ট্যান্ডে সংবাদ সম্মেলন করেন শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। সেখানে তারা বলেন, “ফাহিম ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শুধু পরিবহন খাত নয়, আশপাশের ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে।”

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে এরা এলাকায় ভয়ভীতি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখন ভয়ে সড়কে নামতে সাহস পায় না। এসব কারণে যাত্রাবাড়ি পরিবহন ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রী সাধারণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দলেরজিরো টলারেন্সবার্তা

ফাহিমকে বহিষ্কারের ঘটনায় যুবদল কেন্দ্র থেকে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে দল কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ ছিল অনেকদিন ধরেই। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেছে, তা যথেষ্ট ছিল বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত শুধু বহিষ্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাজনৈতিক দলগুলোতে কিছু অপরাধী ব্যক্তি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সমাজে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। এসব ঘটনায় দল ও রাজনীতির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেষ কথা

যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিমের বিরুদ্ধে ওঠা ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি এবং পরিবহন খাতে সন্ত্রাসী দখলবাজির অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুলে ধরেছে। তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যুবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং এই ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তারা আদৌ কি ন্যায়বিচার পাবেন?

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেন যুবদল নেতা ফাহিম

Update Time : ১০:২১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

c259f31c9cb4d30a5247c3789df48cbf 687275634a3cd

দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার যাত্রাবাড়ি থানার সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান ফাহিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের যেকোনো অপকর্ম বা বেআইনি কার্যকলাপের দায়ভার দল নেবে না। যুবদলের কোনো নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একইসঙ্গে যুবদলের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

গাড়ি ভাঙচুর চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর অভিযোগ

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসে মুশফিকুর রহমান ফাহিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, শরীয়তপুর থেকে পরিচালিত সুপার সার্ভিস পরিবহনের বাসগুলো যাত্রাবাড়ি বাস স্ট্যান্ডে ঢুকতে গেলে তাদের কাছ থেকে এককালীন ৫ কোটি টাকা অথবা মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ফাহিম। চাঁদা না দিলে গাড়িগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়, চালক ও শ্রমিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং স্ট্যান্ড এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় যাত্রাবাড়ি শরীয়তপুর বাস স্ট্যান্ডে সংবাদ সম্মেলন করেন শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। সেখানে তারা বলেন, “ফাহিম ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শুধু পরিবহন খাত নয়, আশপাশের ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছে।”

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে এরা এলাকায় ভয়ভীতি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখন ভয়ে সড়কে নামতে সাহস পায় না। এসব কারণে যাত্রাবাড়ি পরিবহন ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রী সাধারণকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দলেরজিরো টলারেন্সবার্তা

ফাহিমকে বহিষ্কারের ঘটনায় যুবদল কেন্দ্র থেকে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে দল কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ ছিল অনেকদিন ধরেই। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেছে, তা যথেষ্ট ছিল বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত শুধু বহিষ্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাজনৈতিক দলগুলোতে কিছু অপরাধী ব্যক্তি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সমাজে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে। এসব ঘটনায় দল ও রাজনীতির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেষ কথা

যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিমের বিরুদ্ধে ওঠা ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি এবং পরিবহন খাতে সন্ত্রাসী দখলবাজির অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুলে ধরেছে। তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যুবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং এই ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তারা আদৌ কি ন্যায়বিচার পাবেন?