সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকন্যা পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: অভিযোগে জর্জরিত পদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৫ Time View

94373623d54c1a49de9c7c6272ab3fd7 6871c99573314

94373623d54c1a49de9c7c6272ab3fd7 6871c99573314

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (সিয়ারো) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার, ১১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেডরস আধানম গেব্রিয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলের মাধ্যমে এই তথ্য ডব্লিউএইচও-র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়। এতে জালিয়াতি, প্রতারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত ভুয়া তথ্য প্রদান এবং দায়িত্বকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো উঠে আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ছুটির সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের করে। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনারারি পদের দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এমন কোনও নিযুক্তির বিষয় অস্বীকার করে। এই জাল তথ্য প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) এবং ৪৭১ (জাল দলিল ব্যবহার) ধারায় পড়ে।

hasina putul 08042025 01

পাশাপাশি পুতুলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, তিনি ‘শুচনা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান থাকাকালে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা) অনিয়মিতভাবে গ্রহণ করেছেন। এই অভিযোগ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আওতায় পড়ে। মামলাগুলোর পর থেকে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যার ফলে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশে সরকারি সফরে যেতে পারছিলেন না।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একপ্রকার কৌশলগতভাবে তাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, এই ছুটি অনির্দিষ্টকালীন হলেও ভবিষ্যতে তার পদে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ডব্লিউএইচও-র সহকারী মহাপরিচালক ডা. ক্যাথারিনা বোহমে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৫ জুলাই তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে সিয়ারো অফিসে যোগ দেবেন।

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু তার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, তার মা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাসম্পন্ন পদে তাকে বসান। এ নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচও-র এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুতুলের নিয়োগের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষায় একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হেলথ পলিসি ওয়াচ, ডব্লিউএইচও অভ্যন্তরীণ নোটিস, দুদক অভিযোগপত্র।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসিনাকন্যা পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: অভিযোগে জর্জরিত পদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

Update Time : ১১:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

94373623d54c1a49de9c7c6272ab3fd7 6871c99573314

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (সিয়ারো) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার, ১১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেডরস আধানম গেব্রিয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলের মাধ্যমে এই তথ্য ডব্লিউএইচও-র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়। এতে জালিয়াতি, প্রতারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত ভুয়া তথ্য প্রদান এবং দায়িত্বকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো উঠে আসে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ছুটির সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন পুতুলের বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের করে। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনারারি পদের দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এমন কোনও নিযুক্তির বিষয় অস্বীকার করে। এই জাল তথ্য প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) এবং ৪৭১ (জাল দলিল ব্যবহার) ধারায় পড়ে।

hasina putul 08042025 01

পাশাপাশি পুতুলের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, তিনি ‘শুচনা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান থাকাকালে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা) অনিয়মিতভাবে গ্রহণ করেছেন। এই অভিযোগ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আওতায় পড়ে। মামলাগুলোর পর থেকে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যার ফলে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশে সরকারি সফরে যেতে পারছিলেন না।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একপ্রকার কৌশলগতভাবে তাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, এই ছুটি অনির্দিষ্টকালীন হলেও ভবিষ্যতে তার পদে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ডব্লিউএইচও-র সহকারী মহাপরিচালক ডা. ক্যাথারিনা বোহমে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৫ জুলাই তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে সিয়ারো অফিসে যোগ দেবেন।

সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু তার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, তার মা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাসম্পন্ন পদে তাকে বসান। এ নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচও-র এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুতুলের নিয়োগের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষায় একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হেলথ পলিসি ওয়াচ, ডব্লিউএইচও অভ্যন্তরীণ নোটিস, দুদক অভিযোগপত্র।