স্বামীর লিঙ্গ কর্তনের পর থানায় বিষপানে নারীর মৃত্যু: দায়িত্বে অবহেলায় তিন পুলিশ বরখাস্ত
- Update Time : ১১:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
- / ১৭১ Time View

রাজধানীর ভাটারা থানায় পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিষপানে আত্মহত্যা করেন ফিরোজা আশরাফী (২৭) নামের এক নারী। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে পুলিশি হেফাজতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার ভোরে, যখন আশরাফী তার স্বামী ইসমাইল কামাল রিসাদকে ঘুমন্ত অবস্থায় গোপনাঙ্গে আঘাত করেন। দাম্পত্য কলহের জেরে এই ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। লিঙ্গ কর্তনের পর আশরাফী নিজেই আহত স্বামীকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, ইসমাইলের প্রায় ৮০ শতাংশ লিঙ্গ কাটা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আশরাফী নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভাটারা থানায় নিয়ে আসে। থানায় আনার পর আশরাফী শ্বাসকষ্টের কথা জানালে একটি সহায়তামূলক সংগঠনের মাধ্যমে তার বাসা থেকে ইনহেলার আনানো হয়। কিন্তু সেই ইনহেলারের প্যাকেটেই ছিল বিষ। ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিষটি সেখানে লুকানো ছিল, যা থানায় পৌঁছানোর পর তিনি পান করেন।
পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন- এসআই (নিরস্ত্র) জামাল হোসেন, নারী কনস্টেবল শারমিন এবং নাছিমা। তাদেরকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। আমাদের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হেফাজতে থাকা একজন অভিযুক্ত কীভাবে বিষ পান করলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
একইসঙ্গে আশরাফীর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় স্বামীর লিঙ্গ কর্তনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে, ভাটারা থানায় তার বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু এক দাম্পত্য সম্পর্কের করুণ পরিণতিই নয়, বরং পুলিশের হেফাজতের নিরাপত্তা, নারী মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সহিংসতা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিতের প্রশ্নেও বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিচার ও তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও দায় নির্ধারণ সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল, ভাটারা থানা, পল্লবী থানা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখপাত্র, প্রত্যক্ষদর্শীরা।














পুলিশগুলারে পাইখানা খাওয়াইয়া মারা অছিত