সোহাগ হত্যাকাণ্ড: ভিডিও না আসা পর্যন্ত সরকার কী করেছিল?—রুমিন ফারহানার প্রশ্ন
- Update Time : ১০:১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
- / ১৬৬ Time View

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যার ঘটনার পর সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি মনে করেন, এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা ও রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “সোহাগের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ গোটা দেশ আলোচনা করছে। কিন্তু আমি প্রশ্ন রাখতে চাই—মিটফোর্ড হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে আনসার ক্যাম্প ছিল। তারা কী করল? পুলিশ কী করল? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ভিডিও না আসা পর্যন্ত সরকার কী করেছিল? সরকার কীভাবে এত নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে, যখন দিনের আলোয় প্রকাশ্যে একজন নাগরিককে হত্যা করা হয়? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারে বসে থেকে শুধু সুবিধা নেওয়া যায় না, সেই চেয়ারের দায়িত্বও নিতে হয়। ক্ষমতার স্বাদ পেতে হলে দায়িত্ব পালনের সাহসও থাকতে হবে। দেশের মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না, তারা শুধু ন্যূনতম নিরাপত্তা চায়। কিন্তু আজ সেই নিরাপত্তাটুকুও দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।”
রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, “গত ৯ মাসে দেশে যে নতুন একটি সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ভয়ানক। এটা হলো ‘মবোক্রেসি’ বা ‘গণপিটুনি সংস্কৃতি’। আজ আমরা দেখি—হঠাৎ করে ২০-৩০ জন মানুষ মিলে একজন মানুষকে আক্রমণ করছে, তার ব্যক্তিগত শত্রুতা হোক, রাজনৈতিক মতবিরোধ হোক, বা সরাসরি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব হোক—সবকিছুই এখন সহিংসতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের হামলার পেছনে টাকার লেনদেনও যুক্ত থাকে। অর্থাৎ, মানুষ ভাড়া করে আক্রমণ করানো হচ্ছে।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আপনারা যে ঐকমত্যের কথা বলছেন, সেটা যতটুকু হয়েছে, ততটুকুই অনেক। দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণের দায়িত্ব এখন ১৮ কোটি মানুষের। এই দেশ যাদের জন্মভূমি, যারা এই দেশে মরবে—তাদের ইচ্ছা, মত ও অধিকারকে প্রাধান্য দিন।”
তিনি আরও বলেন, “সোহাগের হত্যার ভিডিও না এলে হয়তো এ ঘটনার বিচারও হতো না। এই বাস্তবতা আমাদের দেশে কতটা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তা ভাবা দরকার। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।”
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সবাই সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। সভায় বক্তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এই ধরণের হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ জোগাচ্ছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা এবং সরকার পরিচালনায় জবাবদিহিতার অভাব—যা একজন নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বিচার চাই, প্রতিকার চাই এবং এমন একটি দেশ চাই যেখানে ভাড়া করা মবের হাতে কোনো সোহাগ আর প্রাণ না হারায়।”













