সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান: আখাউড়া ও চন্ডিদার সীমান্তে জব্দ প্রায় ৫ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য
- Update Time : ০৩:১৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
- / ২২২ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও চন্ডিদার সীমান্তে আবারও চোরাচালানবিরোধী দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১২ জুলাই) সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) আওতাধীন এলাকায় চালানো একটি বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বাহিনীটি।
দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জিয়াউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত পণ্যের বিবরণ:
বিজিবির তথ্যমতে, অভিযানে মোট ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে,
- ব্র্যান্ডেড Oris (অরিস) ও Patron (প্যাট্রন) সিগারেট,
- জিরা ও অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্য,
- নির্বাচিত ট্যাবলেট ও ওষুধ, যেগুলো বাংলাদেশে অনুমোদিত নয় বা অবৈধভাবে প্রবেশ করানো হচ্ছিল।
পরবর্তী কার্যক্রম:
জব্দকৃত পণ্য আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অভিযান চলাকালীন কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের খোঁজে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির অঙ্গীকার:
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বিজিবি সদা প্রস্তুত রয়েছে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে। আমরা নিয়মিত গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছি এবং জনগণের সহায়তায় আরও সঠিকভাবে চোরাচালান চক্রকে চিহ্নিত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করছি।”
চোরাচালান প্রবণতা ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ:
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, উচ্চমূল্যের সিগারেট ও ওষুধসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান বেড়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে মোবাইলের যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে চোরাপথে প্রবেশ করিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে উঠে এসেছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরণের চোরাচালান রোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে।
এই সফল অভিযান বিজিবির নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতারই প্রমাণ— সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সীমান্তবাসীদের মধ্যে এই অভিযান ব্যাপক স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।













