সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: পিটিয়ে ও থেঁতলে হত্যা লাল চাঁদকে

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১১০ Time View

DHAKA OLD 1

DHAKA OLD 1
 গত বুধবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে রাস্তার ওপর ব্যবসায়ী লাল চাঁদকে নৃশংসভাবে হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

 

পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: পিটিয়ে থেঁতলে হত্যা লাল চাঁদকে
চাঁদাবাজি আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেই প্রাণ গেল ভাঙারি ব্যবসায়ীর, যুবদলছাত্রদল নেতাদের সংশ্লিষ্টতা, গ্রেপ্তার বহিষ্কার চলছে

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে জনবহুল সড়কে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা শুধু নির্মমতার দিক থেকেই নয়, বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিক থেকেও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী, মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্য সড়কে লোহার রড, ইট, সিমেন্টের ব্লক ও পাইপ দিয়ে শরীর থেঁতলে ফেলা হয় লাল চাঁদকে। এক পর্যায়ে তাঁর গায়ে থাকা জামাকাপড় খুলে তাঁকে বিবস্ত্র করে ফেলা হয় এবং কয়েকজন হামলাকারী তাঁর নিথর শরীরের ওপর লাফিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

প্রচণ্ড মারধরের পর আহত লাল চাঁদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালের গেটের ভেতরে ড্রেনের পাশে ফেলে রাখা হয়। কিন্তু সেখানেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পাকা রাস্তায় ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পুরোনো দ্বন্দ্ব আধিপত্য বিস্তারের জেরে হত্যাকাণ্ড

নিহত লাল চাঁদের বোন মঞ্জুয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, বংশাল থানার রজনী বোস লেন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করতেন লাল চাঁদ। এলাকার কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক বিরোধ ছিল। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা না দেওয়ায় এর আগেও তাঁকে ভয়ভীতি, হুমকি ও দোকানে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

id="attachment_4532" aria-describedby="caption-attachment-4532" style="width: 1024px" class="wp-caption alignnone">prothomalo bangla 2025 07 11 vhhpi159 7
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন ও তারেক রহমান ওরফে রবিন।ছবি: সংগৃহীত

 

মামলার অগ্রগতি গ্রেপ্তার

এই নৃশংস ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে যুবদল নেতা পরিচিত মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন এবং তারেক রহমান ওরফে রবিন। তারেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, কেরানীগঞ্জের ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাঁদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বহিষ্কার

প্রকাশ্য দিবালোকে এমন পাশবিক ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার ১৩ নম্বর আসামি রজ্জব আলী ওরফে পিন্টু জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক জলবায়ুবিষয়ক সহসম্পাদক এবং ১১ নম্বর আসামি সাবাহ করিম ওরফে লাকি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

এই ঘটনার পর দুজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও তাদের দুই সদস্য অপু দাস ও কালু ওরফেকে বহিষ্কার করেছে।

প্রতিবাদ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।” তিনি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা নোংরা রাজনীতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ।”

ছাত্র নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

লাল চাঁদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। ঘটনাটিকে অনেকেই রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও বিচারহীনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গতকাল রাতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। আজ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।

পুলিশি তদন্ত চ্যালেঞ্জ

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক পটভূমিতে এর সূত্রপাত।’’

শেষ কথা

পুরান ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নাগরিককে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এক গভীর সতর্ক সংকেত। হত্যাকারীরা শুধু একজন মানুষকে হত্যা করেনি, বরং সমাজের নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও মানবতার ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত হেনেছে।

এখন সময় দ্রুত বিচার, কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনীতির বাইরে গিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার। অন্যথায় এমন হত্যাকাণ্ড আরো ঘটবে, আর সমাজ শুধু নৃশংসতা নয়, অন্ধকারে আরও ডুবে যাবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: পিটিয়ে ও থেঁতলে হত্যা লাল চাঁদকে

Update Time : ০৬:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
DHAKA OLD 1
 গত বুধবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে রাস্তার ওপর ব্যবসায়ী লাল চাঁদকে নৃশংসভাবে হত্যার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

 

পুরান ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: পিটিয়ে থেঁতলে হত্যা লাল চাঁদকে
চাঁদাবাজি আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেই প্রাণ গেল ভাঙারি ব্যবসায়ীর, যুবদলছাত্রদল নেতাদের সংশ্লিষ্টতা, গ্রেপ্তার বহিষ্কার চলছে

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে জনবহুল সড়কে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)। বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা শুধু নির্মমতার দিক থেকেই নয়, বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিক থেকেও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী, মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্য সড়কে লোহার রড, ইট, সিমেন্টের ব্লক ও পাইপ দিয়ে শরীর থেঁতলে ফেলা হয় লাল চাঁদকে। এক পর্যায়ে তাঁর গায়ে থাকা জামাকাপড় খুলে তাঁকে বিবস্ত্র করে ফেলা হয় এবং কয়েকজন হামলাকারী তাঁর নিথর শরীরের ওপর লাফিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।

প্রচণ্ড মারধরের পর আহত লাল চাঁদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালের গেটের ভেতরে ড্রেনের পাশে ফেলে রাখা হয়। কিন্তু সেখানেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পাকা রাস্তায় ফেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পুরোনো দ্বন্দ্ব আধিপত্য বিস্তারের জেরে হত্যাকাণ্ড

নিহত লাল চাঁদের বোন মঞ্জুয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, বংশাল থানার রজনী বোস লেন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসা করতেন লাল চাঁদ। এলাকার কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক ও সামাজিক বিরোধ ছিল। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা না দেওয়ায় এর আগেও তাঁকে ভয়ভীতি, হুমকি ও দোকানে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

id="attachment_4532" aria-describedby="caption-attachment-4532" style="width: 1024px" class="wp-caption alignnone">prothomalo bangla 2025 07 11 vhhpi159 7
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন ও তারেক রহমান ওরফে রবিন।ছবি: সংগৃহীত

 

মামলার অগ্রগতি গ্রেপ্তার

এই নৃশংস ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে যুবদল নেতা পরিচিত মাহমুদুল হাসান ওরফে মহিন এবং তারেক রহমান ওরফে রবিন। তারেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, কেরানীগঞ্জের ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাঁদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বহিষ্কার

প্রকাশ্য দিবালোকে এমন পাশবিক ঘটনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার ১৩ নম্বর আসামি রজ্জব আলী ওরফে পিন্টু জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক জলবায়ুবিষয়ক সহসম্পাদক এবং ১১ নম্বর আসামি সাবাহ করিম ওরফে লাকি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

এই ঘটনার পর দুজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে। একইভাবে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও তাদের দুই সদস্য অপু দাস ও কালু ওরফেকে বহিষ্কার করেছে।

প্রতিবাদ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।” তিনি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা নোংরা রাজনীতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ।”

ছাত্র নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া

লাল চাঁদের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। ঘটনাটিকে অনেকেই রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও বিচারহীনতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গতকাল রাতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। আজ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।

পুলিশি তদন্ত চ্যালেঞ্জ

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক পটভূমিতে এর সূত্রপাত।’’

শেষ কথা

পুরান ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নাগরিককে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এক গভীর সতর্ক সংকেত। হত্যাকারীরা শুধু একজন মানুষকে হত্যা করেনি, বরং সমাজের নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও মানবতার ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত হেনেছে।

এখন সময় দ্রুত বিচার, কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনীতির বাইরে গিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার। অন্যথায় এমন হত্যাকাণ্ড আরো ঘটবে, আর সমাজ শুধু নৃশংসতা নয়, অন্ধকারে আরও ডুবে যাবে।