সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়া ঠেকাতে ছেলের কাঠমান্ডুগামী বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ালেন মা: র‍্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১৭১ Time View

67c806c9c809613d05d575fc9011e72d 6872038994f1b

67c806c9c809613d05d575fc9011e72d 6872038994f1b

ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হঠাৎ বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৩৭৩। বোমার সংবাদের সূত্রপাত একটি অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন কলের মাধ্যমে। এতে বিমানবন্দরে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় এবং ফ্লাইটটিকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। তবে শেষপর্যন্ত বিমানে কোনো বোমার অস্তিত্ব মেলেনি।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এই ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে। শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, এই ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফল।

র‍্যাব প্রধান জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক ব্যক্তি তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বিজি-৩৭৩ ফ্লাইটে করে নেপালের কাঠমান্ডুতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার এই পরিকল্পনার খবর পেয়ে যান তার স্ত্রী ও মা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মা ছেলের এক বন্ধুর কাছ থেকে ফ্লাইট সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিসে ফোন দিয়ে জানান, ওই ফ্লাইটে বোমা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছেলেকে তার পরকীয়া সঙ্গিনীর সঙ্গে কাঠমান্ডু যেতে বাধা দেওয়া। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণেই তিনি ভুয়া বোমা আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।”

এই ঘটনায় র‍্যাব এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছেলের বন্ধু, ওই ব্যক্তি নিজে এবং অভিযুক্ত মা রয়েছেন বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

র‍্যাব ডিজি বলেন, “এই ধরণের মিথ্যা বোমা আতঙ্ক শুধুমাত্র একটি পরিবারে নয়, গোটা বিমানবন্দর ও ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসিক অবস্থা ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ, এবং আইন অনুযায়ী এর উপযুক্ত বিচার হবে।”

উল্লেখ্য, মিথ্যা বোমা আতঙ্ক ছড়ানো বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিমান পরিবহন নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিচালনায় এমন ঘটনা মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয়ে ক্ষোভ থেকে এমন অপরাধমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার পর ফ্লাইট বিজি-৩৭৩-এ থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন করে বোর্ডিং শুরু হয় এবং ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রা করে।

র‍্যাবের এই অনুসন্ধান ও অভিযানে আবারও প্রমাণিত হলো— প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা দক্ষতা দিয়ে খুব দ্রুতই এমন জটিল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সে জন্য আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরকীয়া ঠেকাতে ছেলের কাঠমান্ডুগামী বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ালেন মা: র‍্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০২:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

67c806c9c809613d05d575fc9011e72d 6872038994f1b

ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হঠাৎ বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৩৭৩। বোমার সংবাদের সূত্রপাত একটি অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন কলের মাধ্যমে। এতে বিমানবন্দরে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় এবং ফ্লাইটটিকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। তবে শেষপর্যন্ত বিমানে কোনো বোমার অস্তিত্ব মেলেনি।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এই ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে। শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, এই ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়, বরং সম্পূর্ণরূপে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফল।

র‍্যাব প্রধান জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক ব্যক্তি তার পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বিজি-৩৭৩ ফ্লাইটে করে নেপালের কাঠমান্ডুতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার এই পরিকল্পনার খবর পেয়ে যান তার স্ত্রী ও মা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মা ছেলের এক বন্ধুর কাছ থেকে ফ্লাইট সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিসে ফোন দিয়ে জানান, ওই ফ্লাইটে বোমা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছেলেকে তার পরকীয়া সঙ্গিনীর সঙ্গে কাঠমান্ডু যেতে বাধা দেওয়া। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণেই তিনি ভুয়া বোমা আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।”

এই ঘটনায় র‍্যাব এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছেলের বন্ধু, ওই ব্যক্তি নিজে এবং অভিযুক্ত মা রয়েছেন বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।

র‍্যাব ডিজি বলেন, “এই ধরণের মিথ্যা বোমা আতঙ্ক শুধুমাত্র একটি পরিবারে নয়, গোটা বিমানবন্দর ও ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা, মানসিক অবস্থা ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ, এবং আইন অনুযায়ী এর উপযুক্ত বিচার হবে।”

উল্লেখ্য, মিথ্যা বোমা আতঙ্ক ছড়ানো বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিমান পরিবহন নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিচালনায় এমন ঘটনা মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয়ে ক্ষোভ থেকে এমন অপরাধমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার পর ফ্লাইট বিজি-৩৭৩-এ থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন করে বোর্ডিং শুরু হয় এবং ফ্লাইটটি নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রা করে।

র‍্যাবের এই অনুসন্ধান ও অভিযানে আবারও প্রমাণিত হলো— প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা দক্ষতা দিয়ে খুব দ্রুতই এমন জটিল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সে জন্য আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।