পাঁচ মাস পর নির্বাচন ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
- Update Time : ১০:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
- / ১৪০ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় হাতে আছে ধরে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।”
রোববার (৬ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর এবং উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্যের জবাব এড়ালেন উপদেষ্টা
বর্তমানে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ যথাযথ নয় বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে অনেকে অনেক কথা বলেন। এটা তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, আমি ওনাদের প্রশ্নের উত্তর দেব না। আমাদের কাজ হচ্ছে প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সেটা আমরা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ধারণা করছি, নির্বাচনের বাকি আছে আরও পাঁচ-ছয় মাস। সেই হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।”
‘নির্বাচন কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর করে না’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা প্রস্তুত—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “নির্বাচন কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। নির্বাচন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল—সবারই এখানে দায়িত্ব আছে। তবে আমরা আমাদের অংশটুকু নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর তালিকা তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশেষ ট্রেনিং—সবই প্রক্রিয়াধীন।”
‘মব’
সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ বা গণজট সহিংসতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, এই প্রবণতা কিছুটা কমে এলেও আবার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “গত দুই-তিন দিনের মধ্যে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট ও ফরিদপুরে ‘মব’ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশে বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এই ‘মব জাস্টিস’ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বানও আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত, তবে জনবল ও সরঞ্জামের প্রয়োজন
শিল্প পুলিশে অতীতের সমস্যাগুলো এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে দাবি করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “গত জুলাই-আগস্টে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে দেশের শিল্পকারখানার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই তুলনায় শিল্প পুলিশে জনবল এবং সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। এসব বাড়াতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “শিল্পাঞ্চলে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিলে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট যে সরকার আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো মতভেদ রয়েছে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে—তা নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকাই হবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।













