সময়: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হুদেইদাহ বন্দর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪৫ Time View

4 20250707095930

4 20250707095930

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আবারও চড়ছে। ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (৭ জুলাই) ইয়েমেনের দিক থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণত বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্বাভাসে সক্রিয় হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি, পর্যালোচনায় সেনাবাহিনী

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, “ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।” তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোথায় আঘাত হেনেছে বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের পাল্টা হামলা: লক্ষ্য হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দর বিদ্যুৎকেন্দ্র

এর জবাবে ইসরায়েল নিজেও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায়। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হোদেইদাহ, রাস ইসা এবং সাইফ বন্দরে হুথিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস কান্টিব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি জাহাজ।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হুথিদের সামরিক ক্ষমতা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

হুথিদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

ইসরায়েলি হামলার পর হুথি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোদেইদাহ বন্দরে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। যদিও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তবে হুথি মুখপাত্ররা জানান, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়েছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে।

হামলার সময় সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়ে আগেই সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালানো হয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের অভিযান ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিচালিত।

পটভূমি: আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার

গত কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের জের ধরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী, যারা ইরানের মিত্র বলে পরিচিত, সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। হুথিরা গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সমুদ্রপথেও হামলা করেছে। ফলে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইসরায়েল ও হুথিদের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু ইসরায়েল-হামাস সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও সরাসরি সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং এর জবাবে ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে যখন বড় শক্তিগুলোর পক্ষ থেকেও সরাসরি অবস্থান নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সংঘর্ষ কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আর তার মূল্য কীভাবে দিতে হবে সাধারণ মানুষকে?

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, হুথি সংবাদমাধ্যম।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হুদেইদাহ বন্দর

Update Time : ১০:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

4 20250707095930

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আবারও চড়ছে। ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (৭ জুলাই) ইয়েমেনের দিক থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণত বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্বাভাসে সক্রিয় হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি, পর্যালোচনায় সেনাবাহিনী

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, “ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।” তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোথায় আঘাত হেনেছে বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের পাল্টা হামলা: লক্ষ্য হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দর বিদ্যুৎকেন্দ্র

এর জবাবে ইসরায়েল নিজেও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায়। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হোদেইদাহ, রাস ইসা এবং সাইফ বন্দরে হুথিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস কান্টিব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি জাহাজ।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হুথিদের সামরিক ক্ষমতা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

হুথিদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

ইসরায়েলি হামলার পর হুথি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোদেইদাহ বন্দরে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। যদিও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তবে হুথি মুখপাত্ররা জানান, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়েছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে।

হামলার সময় সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়ে আগেই সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা চালানো হয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের অভিযান ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিচালিত।

পটভূমি: আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার

গত কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের জের ধরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী, যারা ইরানের মিত্র বলে পরিচিত, সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। হুথিরা গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সমুদ্রপথেও হামলা করেছে। ফলে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইসরায়েল ও হুথিদের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত শুধু ইসরায়েল-হামাস সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও সরাসরি সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং এর জবাবে ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে যখন বড় শক্তিগুলোর পক্ষ থেকেও সরাসরি অবস্থান নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সংঘর্ষ কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আর তার মূল্য কীভাবে দিতে হবে সাধারণ মানুষকে?

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, হুথি সংবাদমাধ্যম।