সময়: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজাম্বিকে নিরাপত্তাহীনতায় ৫০০০ বাংলাদেশি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ২৬৮ Time View

142355 mo

 

পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সহিংসতার এক ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দেশের লাখ লাখ নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরও। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মোজাম্বিকে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। এর মধ্যে অন্তত ৫ হাজার প্রবাসী ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রবাসীদের দুরবস্থা

মোজাম্বিকে বসবাসরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রবাসী ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রবাসীদের কয়েকশ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং আবাসস্থলে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এই অবস্থায় বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির অনারারি কনস্যুলেট। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ হয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক সংকটের উৎস

মোজাম্বিকের বর্তমান সংকটের মূল উৎস অক্টোবর মাসের জাতীয় নির্বাচন। বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনটি ব্যাপক কারচুপিতে পূর্ণ ছিল। বিরোধীদের সমর্থনে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি আরো জটিল হয় যখন আদালত ক্ষমতাসীন ফ্রিলিমো দলের প্রার্থী ড্যানিয়েল চ্যাপোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে। এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী দলের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ, পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।

সহিংসতার বিস্তার

এই সহিংসতা থেকে বিদেশিরাও রেহাই পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মোজাম্বিকে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির রাজধানী মাপুতো এবং নামপুলা ও বেইরা অঞ্চলে সহিংসতা সবচেয়ে বেশি তীব্র। সাম্প্রতিক এক কারাগার দাঙ্গায় ৩৩ জনের মৃত্যু এবং দেড় হাজার বন্দি পালানোর ঘটনা সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের পদক্ষেপ

মোজাম্বিকে বাংলাদেশি মিশন না থাকায়, পর্তুগালের বাংলাদেশ মিশন দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় অবস্থিত মিশনকে দায়িত্ব দিয়েছে। প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী

সংকটের পরিপ্রেক্ষিত

মোজাম্বিক ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ফ্রিলিমো পার্টি ক্ষমতায় রয়েছে। ৪৯ বছরের শাসনকালে দলটির বিরুদ্ধে স্বৈরশাসনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার বিরোধীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, যা দেশজুড়ে সহিংসতার সূত্রপাত করেছে।

মোজাম্বিকের রাজনৈতিক সংকট শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলেছে। সরকারের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করতে হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোজাম্বিকে নিরাপত্তাহীনতায় ৫০০০ বাংলাদেশি

Update Time : ০৯:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

 

পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সহিংসতার এক ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দেশের লাখ লাখ নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরও। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মোজাম্বিকে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন। এর মধ্যে অন্তত ৫ হাজার প্রবাসী ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রবাসীদের দুরবস্থা

মোজাম্বিকে বসবাসরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রবাসী ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রবাসীদের কয়েকশ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট এবং আবাসস্থলে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এই অবস্থায় বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির অনারারি কনস্যুলেট। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ হয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক সংকটের উৎস

মোজাম্বিকের বর্তমান সংকটের মূল উৎস অক্টোবর মাসের জাতীয় নির্বাচন। বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনটি ব্যাপক কারচুপিতে পূর্ণ ছিল। বিরোধীদের সমর্থনে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি আরো জটিল হয় যখন আদালত ক্ষমতাসীন ফ্রিলিমো দলের প্রার্থী ড্যানিয়েল চ্যাপোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে। এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী দলের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ, পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।

সহিংসতার বিস্তার

এই সহিংসতা থেকে বিদেশিরাও রেহাই পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মোজাম্বিকে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির রাজধানী মাপুতো এবং নামপুলা ও বেইরা অঞ্চলে সহিংসতা সবচেয়ে বেশি তীব্র। সাম্প্রতিক এক কারাগার দাঙ্গায় ৩৩ জনের মৃত্যু এবং দেড় হাজার বন্দি পালানোর ঘটনা সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের পদক্ষেপ

মোজাম্বিকে বাংলাদেশি মিশন না থাকায়, পর্তুগালের বাংলাদেশ মিশন দেশটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় অবস্থিত মিশনকে দায়িত্ব দিয়েছে। প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পরিপ্রেক্ষিত

মোজাম্বিক ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ফ্রিলিমো পার্টি ক্ষমতায় রয়েছে। ৪৯ বছরের শাসনকালে দলটির বিরুদ্ধে স্বৈরশাসনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার বিরোধীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, যা দেশজুড়ে সহিংসতার সূত্রপাত করেছে।

মোজাম্বিকের রাজনৈতিক সংকট শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেই নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলেছে। সরকারের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করতে হবে।