সময়: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশে ‘ছাত্রলীগ’ খুঁজতে ছয় বিসিএসে পুনরায় ভেরিফিকেশন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
  • / ২০৬ Time View

1729971078 4cb56676544c14041cc7921031a9661e

প্রতীকী ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে দ্বিতীয়বার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক সংযোগ ও পারিবারিক পটভূমি বিশদে যাচাই করা। জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে এ বিষয়ক নির্দেশনা ইস্যু করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে ছয়টি বিসিএস পরীক্ষায় নিয়োগপ্রাপ্তদের উপর প্রয়োগ করা হবে।

এ প্রক্রিয়ায় ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৪০, এবং ৪১তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আটটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, পারিবারিক পটভূমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ভূমিকা। এর পাশাপাশি, শিক্ষাকালীন সময়ে তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ, অংশগ্রহণ বা সম্পর্কগুলো তদন্তের আওতায় আসবে। এই রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন সহকারী পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে, যার কাজ হবে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা।

 যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

এবারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরো সুসংহত ও বিস্তৃতভাবে করা হবে। এতে কর্মকর্তার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, সচল ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি (যেমন: ফেসবুক), টিআইএন নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেশন, অধ্যয়নকৃত বিষয় এবং আবাসিক হলে থাকার তথ্যও প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 শিক্ষাজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

তদন্তের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে আরও গভীর যাচাই করা হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা অন্য জেলায় অধ্যয়ন করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলায় যোগাযোগ করে তাদের রাজনৈতিক সংযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও, প্রার্থীর কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম, ঠিকানা, এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করে সেখান থেকেও অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা সংযোগের তথ্য আহরণ করতে বলা হয়েছে।

 জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে সংযুক্তির আশঙ্কা

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রার্থীর কোনো ধরনের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করাও এই প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া, কর্মকর্তার এলাকায় তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং তার সমসাময়িক বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে প্রার্থীর ব্যাপারে আরও সম্যক ধারণা তৈরি করা হবে এবং তার সামাজিক অবস্থান ও পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 পুনরায় ভেরিফিকেশন এবং সরকারের উদ্দেশ্য

সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ হিসেবে এই পুনরায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি নেয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, যাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

 সমালোচনা ও প্রশ্ন

তবে এ ধরনের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে নিয়ে কিছু সমালোচনাও উঠেছে। কয়েকটি মহল থেকে এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসাথে, এ পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে এবং এতে বাহিনীর কর্মপ্রাণে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এই প্রক্রিয়া আদৌ সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ হিসেবে বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুলিশে ‘ছাত্রলীগ’ খুঁজতে ছয় বিসিএসে পুনরায় ভেরিফিকেশন

Update Time : ০৮:৩৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
প্রতীকী ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে দ্বিতীয়বার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক সংযোগ ও পারিবারিক পটভূমি বিশদে যাচাই করা। জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে এ বিষয়ক নির্দেশনা ইস্যু করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে ছয়টি বিসিএস পরীক্ষায় নিয়োগপ্রাপ্তদের উপর প্রয়োগ করা হবে।

এ প্রক্রিয়ায় ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৪০, এবং ৪১তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আটটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, পারিবারিক পটভূমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ভূমিকা। এর পাশাপাশি, শিক্ষাকালীন সময়ে তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ, অংশগ্রহণ বা সম্পর্কগুলো তদন্তের আওতায় আসবে। এই রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন সহকারী পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে, যার কাজ হবে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা।

 যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

এবারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরো সুসংহত ও বিস্তৃতভাবে করা হবে। এতে কর্মকর্তার নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, সচল ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি (যেমন: ফেসবুক), টিআইএন নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেশন, অধ্যয়নকৃত বিষয় এবং আবাসিক হলে থাকার তথ্যও প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 শিক্ষাজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

তদন্তের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে আরও গভীর যাচাই করা হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা অন্য জেলায় অধ্যয়ন করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট জেলায় যোগাযোগ করে তাদের রাজনৈতিক সংযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও, প্রার্থীর কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম, ঠিকানা, এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করে সেখান থেকেও অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা সংযোগের তথ্য আহরণ করতে বলা হয়েছে।

 জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে সংযুক্তির আশঙ্কা

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, প্রার্থীর কোনো ধরনের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করাও এই প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া, কর্মকর্তার এলাকায় তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং তার সমসাময়িক বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে প্রার্থীর ব্যাপারে আরও সম্যক ধারণা তৈরি করা হবে এবং তার সামাজিক অবস্থান ও পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 পুনরায় ভেরিফিকেশন এবং সরকারের উদ্দেশ্য

সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ হিসেবে এই পুনরায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি নেয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, যাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

 সমালোচনা ও প্রশ্ন

তবে এ ধরনের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে নিয়ে কিছু সমালোচনাও উঠেছে। কয়েকটি মহল থেকে এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসাথে, এ পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে এবং এতে বাহিনীর কর্মপ্রাণে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এই প্রক্রিয়া আদৌ সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতির অংশ হিসেবে বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।