সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ খুললেও পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়বে না ইরান: নতুন প্রস্তাবে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৯৫ Time View

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান একটি নতুন কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। তবে বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি আপাতত আলোচনার বাইরে রাখতে চায় তেহরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এতে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সামরিক উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনই কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান চায় প্রথমে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হোক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। এর বিপরীতে তেহরানও ওই জলপথে তাদের সামরিক কড়াকড়ি শিথিল করতে এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব মূলত চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ইরানের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, যদি এখনই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর চাপ প্রয়োগের অন্যতম বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হারাতে পারে ওয়াশিংটন।

বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাব সেই কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে পাকিস্তান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর। যদি সমঝোতা হয়, তাহলে তা শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হরমুজ খুললেও পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়বে না ইরান: নতুন প্রস্তাবে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

Update Time : ১২:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান একটি নতুন কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। তবে বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি আপাতত আলোচনার বাইরে রাখতে চায় তেহরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এতে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা সামরিক উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনই কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান চায় প্রথমে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হোক এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। এর বিপরীতে তেহরানও ওই জলপথে তাদের সামরিক কড়াকড়ি শিথিল করতে এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব মূলত চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ইরানের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, যদি এখনই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর চাপ প্রয়োগের অন্যতম বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হারাতে পারে ওয়াশিংটন।

বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন এই প্রস্তাব সেই কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে পাকিস্তান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সক্রিয় উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর। যদি সমঝোতা হয়, তাহলে তা শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।