যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবিতে’ ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা: নতুন করে অনিশ্চয়তায় মধ্যপ্রাচ্য
- Update Time : ১২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১০৯ Time View

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে। ইরান-এর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-এর ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত দাবিকে’ দায়ী করেছে।
ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো কাঠামোগত চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, তেহরান একাধিক গঠনমূলক প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বপরিকল্পিতভাবেই আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। অপরদিকে প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা ইরানের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব।
এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-এর পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘শেষ ও সেরা প্রস্তাব’ দিয়ে বৈঠক ত্যাগ করায় আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এর আগে ভ্যান্স অভিযোগ করেছিলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে তেহরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তিতে সই করবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে।
বর্তমানে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানোয় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, যা ইরানি পক্ষ ‘উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে।
সব মিলিয়ে, এই ব্যর্থ আলোচনা শুধু একটি কূটনৈতিক সুযোগ হারানোর ঘটনা নয়—বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। এখন প্রশ্ন একটাই—উভয় পক্ষ কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি এই সংকট আরও গভীর রূপ নেবে?
















