সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০৮ Time View

 

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও সরকার অতিরিক্ত রিজার্ভ থাকার দাবি করে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। এমনকি সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সংসদের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদে যারা প্রবেশ করেছেন, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে নিপীড়নের শিকার। কেউ কারাবরণ করেছেন, কেউ গোপন বন্দিশালায় আটক ছিলেন, আবার কেউ নির্বাসন বা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের কষ্ট না বোঝে, তাহলে আর কে বুঝবে?

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের জনগণকে দমন করে রেখেছিল, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এখন যদি কেউ সেই ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তরুণ সমাজ ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জামায়াতের পক্ষে মত দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে।

তার মতে, যেদিন জনগণের গণরায় অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সূচনা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সংসদ স্বীকার করুক বা না করুক, জনগণের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে নামবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দল নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না, তারা কখনোই দেশের জনগণকে প্রকৃত গণতন্ত্র দিতে পারে না। সংসদে তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শফিকুর রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেকোনো মূল্যে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান প্রতিহত করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান

Update Time : ০৫:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

 

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও সরকার অতিরিক্ত রিজার্ভ থাকার দাবি করে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। এমনকি সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করতে চাইলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সংসদের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদে যারা প্রবেশ করেছেন, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে নিপীড়নের শিকার। কেউ কারাবরণ করেছেন, কেউ গোপন বন্দিশালায় আটক ছিলেন, আবার কেউ নির্বাসন বা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের কষ্ট না বোঝে, তাহলে আর কে বুঝবে?

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের জনগণকে দমন করে রেখেছিল, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এখন যদি কেউ সেই ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তরুণ সমাজ ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জামায়াতের পক্ষে মত দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে।

তার মতে, যেদিন জনগণের গণরায় অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সূচনা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সংসদ স্বীকার করুক বা না করুক, জনগণের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে নামবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে দল নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না, তারা কখনোই দেশের জনগণকে প্রকৃত গণতন্ত্র দিতে পারে না। সংসদে তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শফিকুর রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেকোনো মূল্যে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান প্রতিহত করা হবে।